প্রাণ ইতি হোবাচ সর্বাণি হ বা ইমানি ভূতানি প্রাণমেবাভিসংবিশন্তি প্রাণমত্যুজ্জিহতে সৈষা দেবতা প্রস্তাবমন্বায়ত্তা তাং চেদবিদ্বান্ প্রাস্তোষ্যো মূর্ধা তে ব্যপতিষ্যত্তথোক্তস্য ময়েতি ॥ ৫
অন্বয় : প্রাণঃ (প্রাণই) ইতি হ উবাচ (ইহা বলিলেন)। সর্বাণি হ বৈ ইমানি ভূতানি (এই সমুদয় ভূত) প্রাণম্ এব অভিসংবিশন্তি (প্রাণেই প্রবেশ করে) প্রাণম্ অভি (প্ৰাণকে লক্ষ করিয়া অর্থাৎ প্রাণ হইতে) উজ্জিহতে (গতিসূচক; উৎপন্ন হয়)। সা এষা দেবতা (সেই এই দেবতা) প্রস্তাবম্ অন্বায়ত্তা (প্রস্তাবের অনুগত)। তাম্ (তাহাকে) চেৎ (যদি) অবিদ্বান্ (না জানিয়া) প্রাস্তোষ্যঃ (প্রস্তাব পাঠ করিতে) মূর্ধা তে (তোমার মস্তক) ব্যপতিষ্যৎ (পতিত হইত) তথা (সেই প্রকার) উক্তস্য (যাহাকে বলা হইয়াছে তাহার অর্থাৎ তোমার; ‘তে’র বিশেষণ) ময়া (আমা কর্তৃক) ইতি।
সরলার্থ : উষস্তি বলিলেন—প্রাণই সেই দেবতা; কারণ এই সর্বভূত প্রাণেই বিলীন হয় এবং প্রাণ হইতেই উৎপন্ন হয়। সেই প্রাণদেবতাই প্রস্তাবের অনুগমন করেন। ইহাকে না জানিয়া যদি তুমি প্রস্তাব পাঠ করিতে, তাহা হইলে আমার ঐ কথায় তোমার মস্তক খসিয়া পড়িত। [কিংবা আমি ঐ প্রকার বলিবার পরও যদি তুমি প্রস্তাব পাঠ করিতে, তোমার মস্তক খসিয়া পড়িত]।
মন্তব্য : ‘সর্বাণি …..উজ্জিহতে’—ডয়সন এই অংশটির এই প্রকার অর্থ করেন, এই সমুদয় ভূত প্রাণ লইয়াই (দেহে) প্রবেশ করে এবং প্রাণের সহিতই চলিয়া যায়। শঙ্করের অর্থ— প্রলয়ের সময়ে এই সমুদয় ভূত প্রাণে লীন হয় এবং সৃষ্টির সময়ে প্রাণ হইতেই উৎপন্ন হয়।