বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
নবানি গৃহ্ণাতি নরোহপরাণি ।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্য-
ন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ॥২২॥
শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী —
ডাক্তার (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি)—কাল রাত তিনটার সময় আমি তোমার জন্য বড় ভেবেছিলুম। বৃষ্টি হল, ভাবলুম দোর-টোর খুলে রেখেছে—না কি করেছে, কে জানে!
শ্রীরামকৃষ্ণ ডাক্তারের স্নেহ দেখিয়া প্রসন্ন হইয়াছেন। আর বলিতেছেন, বল কিগো!
“যতক্ষণ দেহটা আছে ততক্ষণ যত্ন করতে হয়।
“কিন্তু দেখছি যে এটা আলাদা। কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালবাসা যদি একেবারে চলে যায়, তাহলে ঠিক বুঝতে পারা যায় যে দেহ আলাদা আর আত্মা আলাদা। নারকেলের জল সব শুকিয়ে গেলে মালা আলাদা, শাঁস আলাদা হয়ে যায়। তখন নারকেল টের পাওয়া যায়—ঢপর ঢপর করছে। যেমন খাপ আর তরবার—খাপ আলাদা, তরবার আলাদা।
“তাই দেহের অসুখের জন্য তাঁকে বেশি বলতে পারি না।”
গিরিশ—পণ্ডিত শশধর বলেছিলেন, ‘আপনি সমাধি অবস্থায় দেহের উপর মনটা আনবেন,—তাহলে অসুখ সেরে যাবে।’ ইনি ভাবে দেখলেন যে শরীরটা যেন ধ্যাড় ধ্যাড় করছে। (উৎস : শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)