সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ ।
অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ॥৬৬॥
শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী —
শ্রীরামকৃষ্ণ— “গীতার অর্থ কি? দশবার বললে যা হয়। ‘গীতা’ ‘গীতা’, দশবার বলতে গেলে, ‘ত্যাগী’ ‘ত্যাগী’ হয়ে যায়।
গীতায় এই শিক্ষা—হে জীব, সব ত্যাগ করে ভগবানকে লাভ করবার চেষ্টা কর। সাধুই হোক, সংসারীই হোক, মন থেকে সব আসক্তি ত্যাগ করতে হয়। (উৎস : শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)
—
[ঠাকুরের প্রার্থনা—How To Pray]
ঠাকুর এইবার প্রার্থনা করিতেছেন—“ও রাম! ও রাম! আমি ভজনহীন, সাধনহীন, জ্ঞানহীন, ভক্তিহীন—আমি ক্রিয়াহীন! রাম শরণাগত! ও রাম শরণাগত! দেহসুখ চাইনে রাম! লোকমান্য চাইনে রাম! অষ্টসিদ্ধি চাইনে রাম! শতসিদ্ধি চাইনে রাম! শরণাগত, শরণাগত! কেবল এই করো—যেন তোমার শ্রীপাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি হয় রাম! আর যেন তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ হই না, রাম! ও রাম, শরণাগত!”
ঠাকুর প্রার্থনা করিতেছেন, সকলে একদৃষ্টে তাঁহার দিকে চাহিয়া রহিয়াছেন। তাঁহার করুণামাখা স্বর শুনিয়া অনেকে অশ্রুসংবরণ করিতে পারিতেছেন না। (উৎস : শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত)
- যখন শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সমস্ত শক্তি প্রদান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তখন স্বামী বিবেকানন্দ তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; কারণ তিনি জানতেন যে, তা ঈশ্বরলাভে সহায়ক হবে না।
- নচিকেতা যমরাজ প্রদত্ত সমস্ত ধনসম্পদ ও ভোগবিলাস প্রত্যাখ্যান করে কেবল ব্রহ্মজ্ঞান প্রার্থনা করেছিলেন।
- মৈত্রেয়ী তাঁর স্বামী যাজ্ঞবল্ক্যের দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ তিনি জানতেন যে সেই সম্পদ তাঁকে ঈশ্বরলাভে (বা অমৃতত্ব লাভে) সাহায্য করবে না।