যথাঽঽদর্শে তথাঽঽত্মনি যথা স্বপ্নে তথা পিতৃলোকে ।
যথাঽপ্সু পরীব দদৃশে তথা গন্ধর্বলোকে ছায়াতপয়োরিব ব্রহ্মলোকে ॥ ৫ ॥
ব্যাখ্যা—পরিষ্কার আয়নার সামনে কোনো বস্তুকে ধরলে যেমন আয়নার মধ্যে ওই বস্তুকে স্পষ্ট দেখা যায় সেইরকম জ্ঞানী মহাপুরুষের বিশুদ্ধ অন্তঃকরণেও সেই পরমাত্মা স্পষ্টভাবে দৃশ্য হন । যেমন স্বপ্নাবস্থায় বস্তুসকল মানুষের কামনা-বাসনার জন্যে এবং বিবিধ সংস্কার অনুযায়ী বিশৃঙ্খলভাবে, অস্পষ্টভাবে দেখা যায়, সেইরকম পিতৃলোকেও পরমেশ্বরের স্বরূপ যথাযথ দৃশ্য না হয়ে অস্পষ্টভাবে দেখা যায়, কারণ পিতৃলোকগত জীবের পূর্বজন্মের স্মৃতি এবং সম্পর্ক বিষয়ে জ্ঞান থাকার জন্যে সে তদনুরূপ বাসনার দ্বারা আবদ্ধ থাকে । গন্ধর্বলোক, পিতৃলোক অপেক্ষা কিছু উন্নত । সেইজন্যে স্বপ্ন অপেক্ষা জাগ্রত অবস্থায় জলের মধ্যে কোনো বিষয়ের প্রতিবিম্ব যেমন খুব স্পষ্ট না হলেও মোটামুটি স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু জল আন্দোলিত হলে তার ঢেউ-এর ফলে ওই প্রতিবিম্ব অস্পষ্ট হয়ে ওঠে, তেমনি গন্ধর্বলোকেও ভোগবাসনার আন্দোলনে তরঙ্গায়িত মনে পরমাত্মাও সবসময় স্পষ্টভাবে প্রতিভাত না হয়ে কিছু অস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হন । কিন্তু ব্রহ্মলোকে যাঁরা বাস করেন তাঁদের কাছে আলো এবং ছায়ার মতো অঙ্গাঙ্গিভাবে জীবাত্মা এবং পরমাত্মার জ্ঞান স্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষভাবে অনুভূত হয় । সেখানে ভ্রান্তির কোনোরকম সম্ভাবনা নেই ।
প্রথম অধ্যায়ের তৃতীয় বল্লীর প্রথম মন্ত্রে এই কথা বলা হয়েছে যে এই মানবশরীরও একটি লোক বিশেষ । এখানেও জীবাত্মা এবং পরব্রহ্ম পরমাত্মা আলো ছায়ার মতো অঙ্গাঙ্গিভাবে হৃদয় গুহায় স্থিত রয়েছেন । অতএব মানুষের উচিত অপর লোকের (লোকান্তরের) কথা চিন্তা না করে এই বর্তমান শরীর থাকতে থাকতেই সেই পরব্রহ্ম পরমেশ্বরকে উপলব্ধির জন্য চেষ্টা করা । এইজন্যই এই মন্ত্রের অবতারণা হয়েছে॥ ৫ ॥