যদিদং কিঞ্চ জগৎ সর্বং প্রাণ এজতি নিঃসৃতম্ ।
মহদ্ভয়ং বজ্রমুদ্যতং য এতদ্বিদুরমৃতাস্তে ভবন্তি ॥ ২ ॥
ব্যাখ্যা—যা কিছুই ইন্দ্রিয়, মন এবং বুদ্ধি দিয়ে দেখা যায়, শোনা যায়, অনুভব করা যায়—সেই সম্পূর্ণ জগৎ পরম কারণ সেই পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমের দ্বারাই সৃষ্ট এবং সেই প্রাণস্বরূপ পরমেশ্বরের দ্বারাই ক্রিয়াশীল । অর্থাৎ এই সমগ্র ক্রিয়াশীল জগতের স্রষ্টা, আধার এবং শাসনকর্তা হলেন সেই পরমেশ্বর পরব্রহ্মই । তিনি যেমন পরম দয়ালু তেমনি আবার মহাভয়ংকর—ছোট বড় সকলেই তাঁর ভয়ে সর্বদা সন্ত্রস্ত । তিনি উদ্যত বজ্রের মতো কঠিন । যেমন বজ্রধারী প্রভুকে দেখে তার আশ্রিত সকলে যথাবিধি অনবরত তার আজ্ঞা পালনে তৎপর থাকে, তেমনই সমস্ত দেবতা আদি সকলেই সদা সর্বদা যথাবিধি সেই পরমেশ্বরের আজ্ঞাপালনে তৎপর থাকে । এভাবে যাঁরা পরব্রহ্ম পরমেশ্বরকে সমস্ত জীব এবং জড় জগতের স্রষ্টা, জীবনদাতা এবং শাসনকর্তা বলে জেনেছেন, তাঁরা অমৃতত্ত্ব লাভ করেন । তাঁরা জন্ম-মরণের চক্র থেকে চিরমুক্তি লাভ করেন ।