সূর্যো যথা সর্বলোকস্য চক্ষুর্ন লিপ্যতে চাক্ষুষৈর্বাহ্যদোষৈঃ ।
একস্তথা সর্বভূতান্তরাত্মা ন লিপ্যতে লোকদুঃখেন বাহ্যঃ ॥ ১১ ॥
ব্যাখ্যা—যেমন, একই সূর্য সমস্ত জগতকে প্রকাশিত করে । সূর্যের আলোয় প্রাণীমাত্রই বাহ্য জগতের প্রত্যেকটি বস্তু দেখতে পায় । ওই আলোর সাহায্যেই নানারকম সদসৎ কর্ম করে, কিন্তু সূর্য মানুষের করা সদসৎ কর্মের সঙ্গে একটুও লিপ্ত হয় না । সেইরকম সকল প্রাণীর অন্তন্স্থ পরমাত্মা এক হয়েও, তাঁরই শক্তিতে শক্তিমান মন, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়াদি-কৃত সদসৎ কর্মের সঙ্গে এতটুকুও লিপ্ত হন না । মানুষ পরমাত্মার শক্তির সাহায্যেই বিভিন্ন কর্ম করে এবং তার ফলস্বরূপ সুখ, দুঃখ ভোগ করে । পরব্রহ্ম পরমাত্মা কিন্তু ওই কর্মফলজনিত কোনো ভোগের সঙ্গেই সম্পর্কিত নন । তিনি সকলের মধ্যে থেকেও সর্বদাই সর্বতোভাবে পৃথক, তাই তাঁকে বাহ্য বলা হয়েছে । তার এই বাহ্যতা অর্থাৎ নির্লিপ্ততা এবং অসঙ্গতার জন্যেই জীবের সুখ-দুঃখ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না॥ ১১ ॥ (গীতা ১৩ ।৩১) ।