পুরমেকাদশদ্বারমজস্যাবক্রচেতসঃ ।
অনুষ্ঠায় ন শোচতি বিমুক্তশ্চ বিমুচ্যতে ॥ এতদ্বৈ তৎ ॥ ১ ॥
ব্যাখ্যা—মানব দেহ যেন এগারোটি দরজা বিশিষ্ট একটি পুর বা নগর । দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি নাকের ছিদ্র, একটি মুখ, ব্রহ্মরন্ধ্র, নাভি, গুহ্যদ্বার আর লিঙ্গ । সর্বব্যাপী, অবিনাশী, জন্মরহিত, নিত্য, নির্বিকার, একরস, বিশুদ্ধ জ্ঞানস্বরূপ পরমেশ্বরের এটি আবাসস্থল । তিনি সর্বত্র সমভাবে পরিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও তাঁর নিজস্ব আবাসস্থল মানব দেহের হৃদয়দুর্গে রাজার মতো বিশেষরূপে বিরাজমান থাকেন । এই রহস্যের সন্ধান জেনে, এই মনুষ্য শরীর বর্তমান থাকতে অর্থাৎ এই জীবনকালেই যে ব্যক্তি সাধন ভজনে রত হয়ে দেহপুরের অধিপতি পরমেশ্বরকে নিরন্তর চিন্তা এবং ধ্যান করেন, সেই মহাত্মা কোনো দিন শোকে অভিভূত হন না । তিনি শোকের কারণরূপ সংসার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে জীবন্মুক্ত হন । আর দেহত্যাগের পর বিদেহমুক্ত হয়ে পরমাত্মার সাক্ষাৎ লাভ করে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হন । এই যে সর্বব্যাপী পরমেশ্বর—ইনিই সেই ব্রহ্ম, যাঁর কথা তুমি জিজ্ঞাসা করেছ ॥ ১ ॥
সম্বন্ধ—এবার যমরাজ সেই পরমেশ্বরের সর্বরূপের ব্যাখ্যা করছেন—