অঙ্গুষ্ঠমাত্রন্ পুরুষো জ্যোতিরিবাধূমকঃ ।
ঈশানো ভূতভব্যস্য স এবাদ্য স উ শ্বঃ ॥ এতদ্বৈ তৎ ॥ ১৩ ॥
ব্যাখ্যা—মানুষের হৃদয়-গুহায় অবস্থিত এই অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ পুরুষ ভূত, ভবিষ্যৎ আর বর্তমানের নিয়ন্ত্রণকর্তা, এক স্বতন্ত্র পুরুষ । তিনি জ্যোতির্ময় । সূর্য বা অগ্নির মতো উত্তপ্ত নন, কিন্তু দিব্য, নির্মল আর শান্ত, সুশীতল প্রকাশ স্বরূপ । লৌকিক আলোর মধ্যে ধোঁয়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু তাঁর জ্যোতিতে সে সম্ভাবনা নেই, সেই জ্যোতি সর্বদাই বিশুদ্ধ, নির্মল আর জ্ঞানস্বরূপ । অন্যান্য জ্যোতি যেমন কম-বেশি হয়, এই জ্যোতিতে সেই সম্ভাবনা নেই । এই জ্যোতি যেমন আজ আছে, তেমনি আগামীকালও থাকবে । এই পরমাত্মার একরূপতা সর্বদাই অক্ষুণ্ণ । এর ক্ষয় বা বৃদ্ধি নেই আর এ কখনো নিভেও যায় না । হে নচিকেতা ! এই পরিবর্তনশূন্য অবিনাশী জ্যোতিই সেই ব্রহ্ম—যাঁর কথা তুমি জানতে চেয়েছ ॥ ১৩ ॥(১)
(১)এখানে ‘অঙ্গুষ্ঠমাত্র’ শব্দ পরমাত্মার বাচক, জীবের নয় । প্রাতঃস্মরণীয় আচার্য স্পষ্ট বাক্যে বলেছেন—‘পরমাত্মৈবায়মঙ্গুষ্ঠমাত্র-পরিমিতঃ পুরুষো ভবিতুমর্হতি । কস্মাৎ ? শব্দাৎ ‘ঈশানো ভূতভব্যস্য’ ইতি । ন হ্যান্যন্ পরমেশ্বরাদ্ ভূতভব্যস্য নিরঙ্কুশমীশিতা ।’ অর্থাৎ অঙ্গুষ্ঠমাত্র পরিমিত পুরুষ পরমাত্মাই । কীভাবে জানা গেল ? ‘ঈশানো’ আদি শ্রুতি থেকে । একমাত্র পরমেশ্বর ভিন্ন ভূত এবং ভবিষ্যতের নিরঙ্কুশ নিয়ন্তা আর কেউ হতে পারে না (ব্রহ্মসূত্রের শঙ্করভাষ্য ১ ।৩ ।২৪) । এই কথা ওই প্রকরণের মূল সূত্রেও স্পষ্ট ।