অঙ্গুষ্ঠমাত্রঃ পুরুষো মধ্য আত্মনি তিষ্ঠতি ।
ঈশানো ভূতভব্যস্য ন ততো বিজুগুপ্সতে ॥ এতদ্বৈ তৎ ॥ ১২ ॥
ব্যাখ্যা—যদিও অন্তর্যামী পরমেশ্বর সকল প্রাণীর ভূত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ কর্তা, তিনি সমভাবে সর্বকালে সর্বস্থানে পরিপূর্ণভাবে বিরাজিত, তবুও জীবের হৃদয়ে তাঁকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে । পরমেশ্বর কোনো বিশেষ স্থূল বা সূক্ষ্ম আকারবিশিষ্ট নন বরং অবস্থান অনুযায়ী তিনি প্রতিটি বস্তুর আকারসম্পন্ন । ক্ষুদ্র পিপীলিকার হৃদয়ের পরিমাণ অনুযায়ী যেমন ক্ষুদ্র, তেমনি আবার বৃহৎপ্রাণী হাতির হৃদয়ে সেই পরিমাণে বৃহৎ । মানুষের হৃদয় যেহেতু অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ, সেইহেতু মানুষের হৃদয়ে তিনি অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণে সর্বদা বিরাজমান । মানুষকেই পরমাত্ম লাভের উপযুক্ত অধিকারী বিবেচনা করা হয় । অতএব মানুষের হৃদয়ই পরব্রহ্ম পরমেশ্বরকে উপলব্ধির প্রকৃষ্ট স্থান । এইজন্য এখানে মানুষের হৃদয়ের পরিমাণ অনুসারে পরমেশ্বরকে অঙ্গুষ্ঠ পরিমিত বলা হয়েছে । এভাবে আপন হৃদয়ে পরমেশ্বরকে উপলব্ধিকারী ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই জানেন যে, অনুরূপভাবে পরমেশ্বর সকলেরই হৃদয়ে বাস করেন । অতএব তিনি কারো নিন্দা করেন না, কাউকে ঘৃণা বা হিংসাও করেন না । হে নচিকেতা ! ইনিই সেই ব্রহ্ম যাঁর সম্বন্ধে তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ ।