বিজ্ঞানসারথির্যস্তু মনঃপ্রগ্রহবান্ নরঃ ।
সোঽধ্বন্ পারমাপ্নোতি তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদম্ ॥ ৯ ॥
ব্যাখ্যা—তৃতীয় মন্ত্র থেকে নবম মন্ত্র পর্যন্ত সাতটি মন্ত্রে রথের উপমা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে জীবাত্মা এই অতি দুর্লভ মনুষ্য শরীর পরমাত্মার কৃপায় লাভ করেছে, তাকে সত্বর সচেতন হয়ে ঈশ্বর প্রাপ্তির জন্যে সাধন-পরায়ণ হতে হবে । মানব দেহ অনিত্য, প্রতিমুহূর্তে এর ক্ষয় হচ্ছে । যদি জীবনের এই অমূল্য সময় পশুর মতো বৃথা সাংসারিক সুখভোগে ব্যয় করে দেওয়া হয় তাহলে বারবার জন্মমৃত্যুরূপ সংসার-চক্রে ঘুরতে বাধ্য হতে হবে । যে মহান কার্যসিদ্ধির জন্যে এই দুর্লভ শরীর লাভ হয়েছে তা সম্পন্ন হবে না ।
অতএব মানুষের উচিত ঈশ্বরের কৃপালব্ধ বিবেক-শক্তির যথার্থ সদ্ব্যবহার করা । জগতের অনিত্যতা এবং এই আপাত রমণীয় বিষয়জনিত সুখসমূহের যথার্থতঃ দুঃখরূপতা বিবেচনা করে মন থেকে এগুলির কুপ্রভাব মুছে ফেলে সর্বতোভাবে সুখভোগ থেকে বিরত থাকা উচিত । শুধু শরীর নির্বাহের পক্ষে আবশ্যক কর্তব্য-কর্ম নিষ্কামভাবে ঈশ্বরের আদেশ জ্ঞানে পালন করা, নিজের বুদ্ধিতে ভগবানেরনাম, রূপ, লীলা, ধাম, তথা তাঁর অলৌকিক শক্তি এবং অহৈতুকী কৃপার উপর দৃঢ় বিশ্বাস উৎপন্ন করে সর্বতোভাবে ভগবানের উপর নির্ভর থাকা । নিজের মনকে ভগবানের তত্ত্বচিন্তায়, বাক্যকে তাঁর নাম কীর্তনে, চোখকে তাঁর বিরাট-রূপ দর্শনে তথা কানকে তাঁর মহিমা শ্রবণে নিযুক্ত রাখা চাই । এইভাবে সমস্ত ইন্দ্রিয়কে তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত করে জীবনের এক মুহূর্তও যেন ঈশ্বরের মধুর ধ্যান ছাড়া অতিবাহিত না হয় । এতেই মনুষ্য-জীবনের সার্থকতা । যে ব্যক্তি এই পথে চলে, সে নিশ্চিতরূপে পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমের অচিন্ত্য পরমপদ লাভ করে চিরদিনের জন্য কৃতকৃত্য হয় ॥৯ ॥
সম্বন্ধ—উপরিউক্ত বর্ণনায় রথের উপমা দিয়ে ভগবৎপ্রাপ্তির যে সাধন-পথের কথা বলা হয়েছে তাতে বিবেকী-বুদ্ধির দ্বারা মনকে বশীভূত করে ইন্দ্রিয়গণকে বিপরীত পথ থেকে সরিয়ে ইষ্ট পথে সংলগ্ন করতে বলা হয়েছে । এর পরের প্রশ্ন স্বভাবে দুষ্ট এবং বলবান ইন্দ্রিয়গণকে তাদের প্রিয় এবং অভ্যস্ত বিষয় তথা অসৎপথ থেকে কীভাবে সরিয়ে আনা সম্ভব ? এখন এই কথার তাত্ত্বিক বিচার-বিবেচনা করে ইন্দ্রিয়গণকে কীভাবে তাদের বিষয় থেকে সরিয়ে আনা যায়—যমরাজ তার উপদেশ দিচ্ছেন—