ন জায়তে ম্রিয়তে বা বিপশ্চিন্নায়ং কুতশ্চিন্ন বভূব কশ্চিৎ ।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোঽয়ং পুরাণো ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে ॥ ১৮ ॥
হন্তা চেঃ্ন্যতে হন্তু ্ঁ হতশ্চেঃ্ন্যতে হতম্ ।
উভৌ তৌ ন বিজানীতো নায় ্ঁ হন্তি ন হন্যতে॥ ১৯ ॥
ব্যাখ্যা—যমরাজ এখানে আত্মার শুদ্ধ স্বরূপের এবং তাঁর (আত্মার) নিত্যত্বের নিরূপণ করছেন । কেননা যতক্ষণ সাধকের অন্তরে নিজের নিত্যত্ব এবং নির্বিকারত্বের অনুভব না হচ্ছে এবং যতক্ষণ না সে নিজেকে শরীরাদি অনিত্য বস্তু থেকে আলাদা ভাবতে পারছে, ততক্ষণ এই জাগতিক অনিত্য পদার্থের প্রতি তার হৃদয়ে বৈরাগ্যের স্ফূর্তি হয়ে নিত্য তত্ত্বের জিজ্ঞাসা উৎপন্ন হয় না । তার মধ্যে এই দৃঢ় ধারণা থাকবে যে জীবাত্মা নিত্য, চেতন, জ্ঞানস্বরূপ । অনিত্য, বিনাশশীল জড় এবং ভোগ্য পদার্থের সঙ্গে বাস্তবে এর কোনো সম্বন্ধ নেই । জীবাত্মা অনাদি, অনন্ত । এর না আছে কোনো কারণ, না আছে কোনো কার্য । অতএব এই আত্মা সর্বদা জন্মমরণহীন, সর্বদা একরস, চিরন্তন সর্বদা নির্বিকার । শরীরের নাশ হলেও এঁর নাশ হয় না । যে ব্যক্তি এই আত্মাকে হত্যাকারী বা হত্যার যোগ্য মনে করে, সে বস্তুত আত্মার স্বরূপ জানে না । তার ধারণা পুরোপুরি ভ্রান্ত । তার কথার কোনো মূল্য নেই । বাস্তবে আত্মা কাউকে মারেন না আর আত্মাকেও কেউ মারতে পারে না ।
সাধকের শরীর এবং ভোগের অনিত্যতা এবং নিজ আত্মার নিত্যতার উপর বিশ্বাস রেখে এই অনিত্য ভোগের দ্বারা সুখের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে সর্বদা বর্তমান নিত্য সুখস্বরূপ পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমকে লাভের জন্য সচেষ্ট হতে হবে॥ ১৮-১৯ ॥
সম্বন্ধ—এইভাবে নচিকেতার মধ্যে পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমের তত্ত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা জাগ্রত করে যমরাজ এবার পরমাত্মার স্বরূপ ব্যাখ্যা করছেন—