তং দুর্দশং গূঢ়মনুপ্রবিষ্টং গুহাহিতং গহ্বরেষ্ঠং পুরাণম্ ।
অধ্যাত্মযোগাধিগমেন দেবং মত্বা ধীরো হর্ষশোকৌ জহাতি ॥ ১২ ॥
ব্যাখ্যা—এই সম্পূর্ণ জগৎ এক অত্যন্ত দুর্গম গহন অরণ্যের তুল্য, কিন্তু পরব্রহ্ম পরমেশ্বরের দ্বারা পরিপূর্ণ । সেই সর্বব্যাপী সর্বত্র সকল পদার্থে অনুপ্রবিষ্ট (গীতা ৯ ।৪) । সকলের হৃদয়রূপ গুহায় তিনি নিত্য বাস করেন (গীতা ১৩ ।১৭, ১৫ ।১৫, ১৮ ।৬১) । তিনি নিত্য সঙ্গে থাকলেও মানুষ তাঁকে দেখতে পায় না ; কারণ তিনি নিজের মায়ার দ্বারা আবৃত (যোগ-মায়ার আড়ালে লুক্কায়িত), কাজেই অতিশয় গোপনীয় (গীতা ৭ ।২৫) । তাঁর দর্শন সুদুর্লভ । যে শুদ্ধবুদ্ধি সাধক নিজ মন-বুদ্ধি নিত্য-নিরন্তর তাঁরই চিন্তায় ব্যাপৃত রাখেন শুধু তিনিই সেই পরমাত্মাকে লাভ করতে সক্ষম হয়ে চিরতরে সুখ-দুঃখ থেকে মুক্ত হন । তাঁর হৃদয় থেকে শোক-হর্ষাদি বিকার সমূলে বিনষ্ট হয়॥ ১২ ॥(১)
(১)প্রাতঃস্মরণীয় ভাষ্যকার শ্রীমৎ শঙ্করাচার্যও ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্যে এই প্রকরণকে পরমাত্মবিষয়ক বলে মেনে নিয়েছেন ‘প্রকরণং চেদং পরমাত্মনঃ’ ব্রহ্মসূত্র অধ্যায় ১ পাদ ২-এর ১২ সূত্রের ভাষ্য দেখুন ।