বহূনামেমি প্রথমো বহূনামেমি মধ্যমন্ ।
কি ্ঁস্বিদ্ যমস্য কর্তব্যং যন্ময়াঽদ্য করিষ্যতি ॥ ৫ ॥
ব্যাখ্যা—শিষ্য এবং পুত্র তিন শ্রেণীর হয়—উত্তম, মধ্যম এবং অধম । যে শিষ্য বা পুত্র গুরু এবং পিতার মনের কথা বুঝে তাঁদের আদেশের অপেক্ষায় না থেকে তদনুরূপ কার্যে তৎপর হয় তারা প্রথম শ্রেণীর সেবক । যারা তাঁদের আদেশ পাবার পর আদেশ পালন করে তারা মধ্যম শ্রেণীর বা দ্বিতীয় শ্রেণীর সেবক । আর যারা মনের কথা জেনে বা আদেশ পাবার পরও সেই মতো কাজ করে না তারা তৃতীয় শ্রেণীর সেবক বা অধম শ্রেণীর সেবক । আমি তো পিতার বহুশিষ্যের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর আচরণ পরায়ণ । কারণ তাঁর আদেশের আগেই তাঁর মনের কথা বুঝে নিয়ে কাজ করে দিই । আবার অনেক শিষ্যের মধ্যে মধ্যম শ্রেণীরও বটে কারণ মধ্যম শ্রেণীর আচরণও করি । কিন্তু আমি অধম শ্রেণীর আচরণ তো কোনোদিনই করিনি । আদেশ সত্ত্বেও আমি কর্তব্য সম্পাদন করিনি এমন কোনোদিনই হয়নি । তবে আজ পিতা আমাকে এমন কথা বললেন কেন ? যমরাজেরই বা এমন কী প্রয়োজন থাকতে পারে যা পিতা আজ আমাকে তাঁর হাতে দিয়ে সম্পন্ন করাতে ইচ্ছুক॥ ৫ ॥
সম্বন্ধ—পিতা বোধ হয় ক্রোধের বশে এ কথা বলে ফেলেছেন ; কিন্তু যাই হোক না কেন পিতার কথার অমর্যাদা যাতে না হয় তা দেখতে হবে । তাঁর কথা পালন করা অবশ্য কর্তব্য । আবার অন্যদিকে মনে হচ্ছে, পিতা এখন খুবই মনস্তাপে ভুগছেন । অতএব তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়াও কর্তব্য । এইসব নানা কথা ভাবতে ভাবতে নচিকেতা একান্তে পিতার কাছে গিয়ে তাঁর মনঃকষ্ট নিবারণের জন্য নিম্নরূপ আশ্বাসের কথা বললেন—