নিষ্কলং নিষ্য়ি ্ঁ শান্তং নিরবদ্যং নিরঞ্জনম্ ।
অমৃতস্য পর ্ঁ সেতুং দগ্ধেন্ধনমিবানলম্ ॥ ১৯ ॥
ব্যাখ্যা—নির্গুণ-নিরাকার ব্রহ্মোপাসককে এইরূপ ভাবনা করতে হবে যে, যিনি (পূর্বোক্ত) ষোড়শকলারহিত অর্থাৎ সাংসারিক সম্বন্ধরহিত, সর্বতোভাবে ক্রিয়াশূন্য, পরম শান্ত এবং সর্বদোষশূন্য, যিনি অমৃতস্বরূপ মোক্ষের পরম সেতু অর্থাৎ যাঁর আশ্রয় নিয়ে মানুষ অত্যন্ত সহজে অনায়াসে ভবসাগর উত্তীর্ণ হতে পারে, যিনি কাষ্ঠের পার্থিবাংশ প্রজ্জ্বলিত হওয়ার পর উত্তপ্ত প্রদীপ্ত অঙ্গারের ন্যায় সর্বথা নির্বিকার, নির্মল প্রকাশস্বরূপ, জ্ঞানস্বরূপ পরম চেতন, সেই নির্বিশেষ নির্গুণ, নিরাকার পরমাত্মতত্ত্ব অবগতিহেতু আমি নিরন্তর তাঁরই চিন্তন করি॥ ১৯ ॥
সম্বন্ধ—পূর্বে একথা বলা হয়েছে যে, ‘সাংসারিক বন্ধন থেকে বিমুক্ত হতে হলে পরমাত্মতত্ত্বাবগতি বিনা অন্য কোনো উপায় নেই’—এই বক্তব্য আরও দৃঢ়ভাবে বলা হচ্ছে—
যদা চর্মবদাকাশং বেষ্টয়িষ্যন্তি মানবাঃ ।
তদা দেবমবিজ্ঞায় দুঃখস্যান্তো ভবিষ্যতি ॥ ২০ ॥
ব্যাখ্যা—আকাশ মণ্ডলকে চর্মাবৃত করা মানবের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয় । নিখিল মানব একত্রিত হয়ে কর্মব্রতী হলেও ওই কার্য সিদ্ধ করা যেরূপ অসম্ভব, সেইরূপ পরব্রহ্মতত্ত্বাবগতি বিনা সাংসারিক বন্ধন থেকে মুক্তিলাভ করা, ভবসাগর পার হওয়াও জীবের পক্ষে একান্ত দুন্সাধ্য । অতএব, চিরমুক্তি লাভ করতে চাইলে, নিশ্চলানন্দানুভব করতে চাইলে, চঞ্চল চিত্তকে বিষয়রসরূপ বিষ থেকে অপসারণ করে একমাত্র জ্ঞেয় বস্তুকে জানার ইচ্ছায় দৃঢ়ভাবে ব্রতী হতে হবে॥ ২০ ॥