একো হ ্ঁসো ভুবনস্যাস্য মধ্যে স এবাগ্নিঃ সলিলে সন্নিবিষ্টঃ ।
তমেব বিদিত্বাঽতিমৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেঽয়নায় ॥ ১৫ ॥
ব্যাখ্যা—এই ব্রহ্মাণ্ডে যে একমাত্র প্রকাশস্বরূপ পরব্রহ্ম পরমেশ্বর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত এবং পরিপূর্ণ তিনিই সলিলমধ্যে প্রবিষ্ট অগ্নি । যদ্যপি শীতল স্বভাবযুক্ত জলে উষ্ণস্বভাবযুক্ত অগ্নির অবস্থান অসম্ভব বলে মনে হয়, কারণ উভয়ের ধর্ম পরস্পর বিরুদ্ধ তথাপি তদ্রহস্যজ্ঞের নিকট অর্থাৎ বৈজ্ঞানিকগণের নিকট তা প্রত্যক্ষ পরিলক্ষিত হয় । তাঁরা জল থেকে বিদ্যুৎ রূপে অগ্নিতত্ত্বকে বের করে নানা কর্ম সম্পাদন করেন । শাস্ত্র বলেছে ক্বচিৎ ক্বচিৎ, সাগরে বাড়বানল বিদ্যমান । কার্যে কারণ তত্ত্ব বিদ্যমান—এই ন্যায় অনুসারে জল তত্ত্বের কারণ হওয়ায় তেজস্তত্ত্বে জলের ব্যাপ্তি প্রমাণিত হয় । কিন্তু এই রহস্যানভিজ্ঞ ব্যক্তি জলস্থিত অগ্নি দেখতে পান না । অনুরূপ পরমাত্মা এই জগত অপেক্ষা সর্বতোভাবে বিলক্ষণ, কারণ তিনি চেতন, জ্ঞানস্বরূপ এবং সর্বজ্ঞ তথা জগৎ জড় এবং জ্ঞেয় । এইরূপে জড়াত্মক ধর্মের বিপরীত হওয়ায় সাধারণভাবে বোঝা যায় না যে, তিনি কীভাবে জড়েও পরিব্যাপ্ত । কিন্তু যিনি পরব্রহ্মের অচিন্ত্য অদ্ভুত শক্তি বা রহস্য বোঝেন তিনি প্রত্যক্ষবৎ সর্বত্র পরিপূর্ণ সকলের একমাত্র কারণকে অবলোকন করেন ।
ওই সর্বশক্তিমান, সর্বাধার পরমাত্মাকে জানলে মৃত্যুরূপ সংসার-সাগর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । তাঁর দিব্য পরমধাম প্রাপ্তিহেতু অন্য কোনো মার্গ নেই । অতএব, পরমাত্মতত্ত্ব জিজ্ঞাসু হয়ে তাঁকে জানার জন্য আমাদের সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন॥ ১৫ ॥
সম্বন্ধ—যাঁকে অবগত হলে জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসার থেকে মুক্তিলাভ হয়, সেই পরমেশ্বর কীরূপ ? এই জিজ্ঞাসায় তাঁর স্বরূপ বর্ণনা করা হচ্ছে—