স্থূলানি সূক্ষ্মাণি বহূনি চৈব রূপাণি দেহী স্বগুণৈর্বৃণোতি ।
ক্রিয়াগুণৈরাত্মগুণৈশ্চ তেষাং সংযোগহেতুরপরোঽপি দৃষ্টঃ ॥ ১২ ॥
ব্যাখ্যা—জীবাত্মা নিজ কৃতকর্মের সংস্কারে এবং বুদ্ধি, মন, ইন্দ্রিয় তথা পঞ্চভূত—এগুলির সমুদয়রূপ শরীরের ধর্মে যুক্ত হওয়ার ফলে অহং-মমত্ব আদি নিজ গুণগুলির বশীভূত হয়ে অনেক শরীর ধারণ করেন । অর্থাৎ শরীরের ধর্মে অহং-মমত্ববোধ করে তদ্রূপ হওয়ার ফলে নানা প্রকার স্থূল এবং সূক্ষ্ম রূপ স্বীকার করেন, নিজ কর্মানুসারে ভিন্ন ভিন্ন যোনিতে জন্মগ্রহণ করেন । কিন্তু এইরূপ জন্মগ্রহণে জীবাত্মা স্বতন্ত্র নয় । সংকল্প এবং কর্মানুসারে ওই সমস্ত যোনিতে সম্বন্ধ স্থাপনাকারী সংযোজক হলেন অন্য একজন । সেই সংযোজক স্বয়ং পরমেশ্বর, যাঁকে কেবলমাত্র তত্ত্বজ্ঞ মহাপুরুষগণ দর্শন করেছেন । তাঁরা এই রহস্য উত্তমরূপে অবগত হয়েছেন । এখানে কর্মের সংস্কারের নাম হল ক্রিয়া-গুণ এবং সমস্ত তত্ত্বের সমুদয়রূপ শরীরকে দেখা, শোনা, বোঝা ইত্যাদি হল আত্মগুণ । এগুলির সঙ্গে সম্বন্ধের ফলে জীবাত্মাতে যে অহং, মমত্ব, আসক্তি প্রভৃতি জন্মায়, তারই নাম স্বগুণ॥ ১২ ॥
সম্বন্ধ—অনাদি কাল থেকে জন্ম-মৃত্যুরূপ যে ধারা চলে আসছে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার উপায় কী ? এই প্রশ্নে বলছেন—