সংকল্পনস্পর্শনদৃষ্টিমোহৈর্গ্রাসাম্বুবৃষ্ট্যা চাত্মবিবৃদ্ধিজন্ম ।
কর্মানুগান্যনুক্রমেণ দেহী স্থানেষু রূপাণ্যভিসম্প্রপদ্যতে ॥১১॥
ব্যাখ্যা—সংকল্প, স্পর্শ, দৃষ্টি, মোহ, ভোজন, জলপান এবং বৃষ্টি—এই সবের মাধ্যমে সজীব শরীরের বৃদ্ধি এবং জন্ম হয় । এর একটি ভাবার্থ হল এই যে, স্ত্রী-পুরুষের পারস্পরিক মোহপূর্বক সংকল্প, স্পর্শ এবং দৃষ্টিপাতের দ্বারা সহবাস হলে জীবাত্মা গর্ভে আসে । পশ্চাৎ মাতার জলপান, ভোজন মাধ্যমে রস দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হলে জন্ম হয় । অন্য ভাবার্থ এই যে, ভিন্ন ভিন্ন যোনিতে জীবের উৎপত্তি এবং বৃদ্ধি ভিন্ন ভিন্ন প্রকারে হয় । কোনো কোনো যোনিতে সংকল্পমাত্রেই জীবের পোষণ হয় । যেমন কচ্ছপের ডিমের ক্ষেত্রে ওইরূপেই হয় । কোনো যোনিতে আসক্তিপূর্বক স্পর্শমাত্রে হয়, যেমন পক্ষীর ডিম্বের ক্ষেত্রে । কোনো যোনিতে কেবল আসক্তিপূর্বক দর্শনমাত্রে হয়, যেমন মৎস্যাদির ক্ষেত্রে । কোনো যোনিতে অন্ন ভক্ষণে তথা জলপানে হয়ে থাকে যেমন মানব তথা পশুর ক্ষেত্রে । কোনো ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাতের দ্বারা হয় যেমন বৃক্ষ-লতাদিতে । এইভাবে নানা প্রকারে সজীব শরীরের পালন-পোষণ, তুষ্টি-পুষ্টিরূপ বৃদ্ধি এবং জন্ম হয় । জীবাত্মা নিজ কর্মানুসারে ফলভোগ হেতু এইরূপে বিভিন্ন লোকে গমন করে ক্রমশ ভিন্ন ভিন্ন শরীর বারংবার ধারণ করতে থাকে॥ ১১ ॥
সম্বন্ধ—বারংবার নানা যোনিতে গমনাগমনের কারণ কী ? এই জিজ্ঞাসায় বলছেন—