গুণান্বয়ো যঃ ফলকর্মকর্তা কৃতস্য তস্যৈব স চোপভোক্তা ।
স বিশ্বরূপস্ত্রিগুণস্ত্রিবর্ত্মা প্রাণাধিপঃ সঞ্চরতি স্বকর্মভিঃ ॥ ৭ ॥
ব্যাখ্যা—এই প্রকরণের প্রারম্ভেই জীবাত্মার জন্য ‘গুণান্বয়ঃ’ বিশেষণ দেওয়া হয়েছে । এই বিশেষণের মাধ্যমে একথা বোঝানো হয়েছে যে, যে জীব গুণ দ্বারা সম্বদ্ধ অর্থাৎ প্রকৃতিতে স্থিত, সেই এই জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসারচক্রে ভ্রমণ করে (গীতা ১৩ ।২১) গুণাতীতের পরিভ্রমণ হয় না । মন্ত্রের সারাংশ এই যে, যে জীবাত্মা সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ এই ত্রিবিধ গুণান্বিত (গীতা ১৪ ।৫), সেই জীবাত্মা কর্মফলরূপ ভোগের প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নানা প্রকার কর্ম করে এবং নিজ কৃতকর্মের ফল ভোগ করার জন্য নানা যোনিতে বিভিন্ন রূপে জন্ম নেয় এবং যেখানেই জীবাত্মা গমন করে, সেখানেই গুণত্রয়যুক্ত হয় । মৃত্যুর পর কর্মানুসারে তাঁর তিনটি গতি হয় । অর্থাৎ শরীর ত্যাগের পর তাঁর মার্গত্রয়ে গমন হয় । ওই মার্গত্রয় যথাক্রমে—দেবযান, পিতৃযান এবং তৃতীয় নিরন্তর জন্ম-মৃত্যুরূপ চক্রে পরিভ্রমণ (১) । প্রাণের অধিপতি জীবাত্মা যাবৎ মুক্ত না হন তাবৎ নিজ কৃতকর্ম দ্বারা প্রেরিত হয়ে নানা লোকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার যোনি গ্রহণ করে এই সংসারচক্রে পরিভ্রমণে রত থাকে॥ ৭ ॥
(১)ছান্দোগ্য উপনিষদে ৫ ।১০ ।২ থেকে ৮ পর্যন্ত এবং বৃহদারণ্যক. ৬ ।২ ।১৫-১৬ মন্ত্রে তিন মার্গের কথা বলা হয়েছে । দেবযান মার্গে গমনকর্তা ব্রহ্মলোক পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন না, ব্রহ্মার সঙ্গেই মুক্ত হয়ে যান । পিতৃযান মাধ্যমে গমনকর্তা স্বর্গে গিয়ে দীর্ঘকাল তথাকার দিব্যসুখ ভোগ করেন এবং পুণ্য ক্ষীণ হলে পুনন্ মর্ত্যে আগমন করেন । তৃতীয় মার্গে গমনকারীর কীট-পতঙ্গাদি প্রজাতিতে জন্মাতে-মরতে হয় ।
সম্বন্ধ—জীবাত্মার স্বরূপ কীরূপ ? এই প্রশ্নে বলছেন—