যচ্চ স্বভাবং পচতি বিশ্বযোনিঃ পাচ্যাংশ্চ সর্বান্ পরিণাময়েদ্ যঃ ।
সর্বমেতদ্ বিশ্বমধিতিষ্ঠত্যেকো গুণাংশ্চ সর্বান্ বিনিযোজয়েদ্ যঃ ॥ ৫ ॥
ব্যাখ্যা—তিনি এই সম্পূর্ণ বিশ্বের কারণ অর্থাৎ যাঁর আর অন্য কোনো কারণ নেই, জগতের কারণরূপ সমস্ত তত্ত্বের শক্তিরূপ স্বভাবকে যিনি নিজ সংকল্পরূপ তপ দ্বারা সিদ্ধ করেন অর্থাৎ আকাশাদি তত্ত্বের যে ভিন্ন ভিন্ন শক্তি প্রলয়কালে লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, সেইগুলি নিজ সংকল্প দ্বারা পুনরায় জাগরিত করেন এবং উৎপন্ন শক্তিগুলি নানারূপে পরিবর্তিত করে এই বৈচিত্র্যময় জগতের সৃষ্টি করেন তথা সত্ত্বাদি গুণত্রয়ের তথা তা থেকে উৎপন্ন পদার্থের সাথে কর্মানুসারে জীবের যথাযোগ্য সম্বন্ধ স্থাপিত করেন । এইভাবে যিনি একাই এই সম্পূর্ণ জগতের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করে স্বয়ং শাসন করেন, তিনিই পূর্বোক্ত মন্ত্রোক্ত সর্বশক্তিমান পরমেশ্বর॥ ৫ ॥
তদ্ বেদগুহ্যোপনিষৎসু গূঢ়ং তদ্ ব্রহ্মা বেদতে ব্রহ্মযোনিম্ ।
যে পূর্বদেবা ঋষয়শ্চ তদ্বিদুস্তে তন্ময়া অমৃতা বৈ বভূবুঃ ॥ ৬ ॥
ব্যাখ্যা—ওই পরব্রহ্ম পরমাত্মার স্বরূপের বর্ণনা বেদের রহস্য বিদ্যারূপ উপনিষদ্-গুলিতে নিগূঢ় অর্থাৎ গুপ্তরূপে করা হয়েছে । তাঁর থেকেই বেদোৎপত্তি । বেদসমূহ তাঁরই নিঃশ্বাসরূপ—‘যস্য নিঃশ্বসিতং বেদান্ ।’ এইভাবে বেদে নিগূঢ়রূপে তিনি অবস্থান করছেন এবং বেদের প্রাকট্যস্থান ওই পরমাত্মাকে ব্রহ্মা জানেন । তদতিরিক্ত আরও পূর্ববর্তী যে সকল দেবতা বা ঋষি তাঁকে পরিজ্ঞাত হয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই তাঁতে তন্ময় হয়ে আনন্দরূপ হয়ে গিয়েছেন । এইজন্য মানুষের উচিত ওই সর্বশক্তিমান, সর্বাধার, সর্বাধীশ্বর পরমাত্মাকে স্বীকার করা । তাঁকে জানার এবং তাঁকে লাভ করার জন্য উৎসুক্য আবশ্যক॥ ৬ ॥
সম্বন্ধ—পঞ্চম মন্ত্রে একথা বলা হয়েছিল যে, পরমেশ্বর সকল জীবকে তার কর্মানুসারে গুণের সাথে সংযোগ করেন, অতএব এখন জীবাত্মার স্বরূপ এবং তাঁর নানা যোনিতে বিচরণের কারণ প্রভৃতি বলার জন্য পৃথক প্রকরণ আরম্ভ করা হচ্ছে—