দ্বে অক্ষরে ব্রহ্মপরে ত্বনন্তে বিদ্যাবিদ্যে নিহিতে যত্র গূঢ়ে ।
ক্ষরং ত্ববিদ্যা হ্যমৃতং তু বিদ্যা বিদ্যাবিদ্যে ঈশতে যস্তু সোঽন্যঃ ॥ ১॥
ব্যাখ্যা—যে পরমেশ্বর ব্রহ্মা অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ, নিজ মায়ারূপ যবনিকায় লুকিয়ে আছেন, যিনি অসীম এবং অবিনাশী অর্থাৎ দেশকালাতীত তথা যাঁর কদাপি কোনোপ্রকারে বিনাশ হয় না তথা যে পরমাত্মাতে অবিদ্যা ও বিদ্যা—উভয়ই বিদ্যমান অর্থাৎ উভয়েই যাঁর আধারে বিরাজমান তিনিই পূর্ণব্রহ্ম পুরুষোত্তম । এই মন্ত্রে পরিবর্তনশীল, উৎপত্তি-বিনাশশীল ক্ষরতত্ত্বকে অবিদ্যা নামে অভিহিত করা হয়েছে, কারণ তা জড় । জড়ে জ্ঞানের সর্বতোভাবে অভাব । তদ্ভিন্ন যিনি জন্মমৃত্যুরহিত, যাঁর ক্ষয় বৃদ্ধি হয় না, সেই অবিনাশী কূটস্থ তত্ত্ব (জীব সমুদয়) বিদ্যা নামে খ্যাত, কারণ তা চেতন, বিজ্ঞানময় । উপনিষদে কোনো কোনো স্থানে তাঁকে বিজ্ঞানাত্মা বলা হয়েছে । এখানে শ্রুতি স্বয়ংই বিদ্যা এবং অবিদ্যার পরিভাষা করেছেন । অতএব, অর্থান্তর কল্পনা অনাবশ্যক । যিনি এই বিদ্যা এবং অবিদ্যা নামে ক্ষর এবং অক্ষর উভয়ের উপর শাসন করেন, উভয়ের স্বামী, উভয়েই যাঁর শক্তি এবং প্রকৃতি, সেই পরমেশ্বর এই উভয় থেকে ভিন্ন, সর্বতোভাবে বিলক্ষণ অনুপম । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও বলা হয়েছে—‘উত্তমঃ পুরুষস্ত্বন্যঃ’ (১৫ ।১৭)॥ ১ ॥