ন সন্দৃশে তিষ্ঠতি রূপমস্য ন চক্ষুষা পশ্যতি কশ্চনৈনম্ ।
হৃদা হৃদিস্থং মনসা য এনমেবং বিদুরমৃতাস্তে ভবন্তি ॥ ২০ ॥
ব্যাখ্যা—পরব্রহ্ম পরমাত্মস্বরূপ চক্ষুর সামনে প্রত্যক্ষ বস্তুর ন্যায় দৃষ্ট হন না । যখন সাধক মন দ্বারা তাঁর চিন্তন করেন তখন বিশুদ্ধঅন্তঃকরণে কখনো কখনো ওই আনন্দময় পরমেশ্বরের স্বরূপের ক্ষণিক প্রকাশ হয় । কিন্তু সেটি নিশ্চল থাকে না । প্রাকৃত চর্মচক্ষু দ্বারা পরমাত্মাকে দর্শন করা আদৌ সম্ভব নয় । কৃপাময় যাঁকে কৃপা করে দিব্যদৃষ্টি প্রদান করেন তিনিই দিব্য নেত্র মাধ্যমে তাঁকে দর্শন করেন । যে যে সাধক এই রহস্যকে অবহিত হয়ে নিজ হৃদয়স্থিত অন্তর্যামী পরমেশ্বরকে, তাঁর গুণ তথা প্রভাবের কথা শ্রবণ করে ভক্তিভাবাপ্লুত হৃদয়ে, নির্মল মনে নিরন্তর তাঁর চিন্তন, মনন এবং নিদিধ্যাসনে রত থাকেন, তাঁরা অমৃতত্ব লাভ করেন অর্থাৎ জন্ম-মৃত্যুরূপ বন্ধন থেকে চিরতরে মুক্ত হন॥ ২০ ॥
সম্বন্ধ—এইভাবে পরমেশ্বরের স্বরূপ এবং প্রাপ্তির ফলের বর্ণনা করে আগামী দুটি মন্ত্রে প্রথমে মুক্তিহেতু এবং পরে সাংসারিক ভয় থেকে রক্ষার জন্য ওই পরমাত্মার নিকট প্রার্থনার প্রকার বলা হচ্ছে—