দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া সমানং বৃক্ষং পরিষস্বজাতে ।
তয়োরন্যঃ পিপ্পলং স্বাদ্বত্ত্যনশ্নন্নন্যো অভিচাকশীতি॥ ৬ ॥(২)
(২)এই মন্ত্রটি অথর্ববেদের কাণ্ড ৯ সূক্ত ১৪-র ২০ নং শ্লোক তথা ঋগ্বেদ মণ্ডল ১ সূক্ত ১৬৪-র ২০ তম মন্ত্রের অনুরূপ ।
ব্যাখ্যা—যেরূপ গীতাদি গ্রন্থে জগতকে অশ্বত্থ বৃক্ষরূপে বর্ণনা করা হয়েছে, সেইরূপ এই মন্ত্রে শরীরকে অশ্বত্থবৃক্ষরূপে এবং জীবাত্মা তথা পরমাত্মাকে পক্ষীরূপে বর্ণনা করা হয়েছে । অনুরূপ কঠোপনিষদে জীবাত্মা এবং পরমাত্মাকে গুহায় প্রবিষ্ট ছায়া এবং সূর্যের তাপ রূপে বর্ণনা করা হয়েছে (কঠ. ১ ।৩ ।১) । উভয়স্থলে বক্তব্য প্রায়শ একই প্রকারের । এখানে মানব শরীরকে অশ্বত্থবৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে । ঈশ্বর এবং জীব—উভয়ের যেন একত্র একসাথে একই হৃদয়রূপ গুহায় অবস্থান । প্রারব্ধানুসারে যে সুখ-দুঃখরূপ কর্মফল লাভ হয় তাই অশ্বত্থ বৃক্ষের ফল । এই ফল জীবাত্মারূপ পক্ষী স্বাদের মাধ্যমে ভোজন করে । অর্থাৎ হর্ষ-শোকাদির অনুভব-মাধ্যমে কর্মফল ভোগ করে । কিন্তু ঈশ্বররূপ পক্ষী এই ফল ভক্ষণ থেকে বিরত । সে কেবল পরিদর্শন করে । অর্থাৎ এই শরীরে সুখ-দুন্খের তিনি ভোক্তা হন না, কেবল সাক্ষিরূপে বিরাজমান । পরমাত্মার ন্যায় জীবাত্মাও যদি দ্রষ্টা হতে পারে তাহলে তারও কর্মফলের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ থাকবে না । জীবাত্মার সম্বন্ধে পূর্বমন্ত্রে একথা বলা হয়েছে যে, জীবাত্মা প্রকৃতিকে উপভোগ করার পর তাকে অসার ভেবে পরিত্যাগ করে, তার থেকে বিমুখ হন । তার ক্ষেত্রে পুনঃ প্রকৃতি অর্থাৎ জাগতিক সত্তা থাকে না । তখন জীবাত্মা এবং তাঁর সখা—এই দুইই থাকে এবং তাঁরা পারস্পরিক সখ্য অর্থাৎ গভীর প্রেমের আনন্দে নিমগ্ন থাকেন ॥ ৬ ॥ মুণ্ডকে ৩ ।১ ।১—এ এই মন্ত্র এইভাবেই উল্লিখিত রয়েছে ।