সমে শুচৌ শর্করাবহ্নিবালুকাবিবর্জিতে শব্দজলাশ্রয়াদিভিঃ ।
মনোঽনুকূলে ন তু চক্ষুপীড়নে গুহানিবাতাশ্রয়ণে প্রযোজয়েৎ ॥ ১০ ॥
ব্যাখ্যা—এই মন্ত্রে ধ্যানযোগের উপযুক্ত স্থানের বর্ণনা করা হয়েছে । এর ভাবার্থ এই যে, ধ্যানযোগের সাধনকর্তাকে এরূপ স্থানে নিজ আসন স্থাপন করতে হবে যেখানে ভূমি সমতল হবে, উচ্চ-নিম্ন না হয় এবং স্থানটি যেন শুদ্ধ হয় । প্রস্তরযুক্তস্থান বা দুর্গন্ধময় স্থান যেন না হয় । কোনো দেবালয়, পবিত্র তীর্থভূমি হলে উত্তম । বালুকারাশি, অগ্নি বা রৌদ্রজনিত উষ্ণভাব যেন না হয় । মন বিক্ষেপকারী প্রতিকূল শব্দ যেন না থাকে । স্থানটি কোলাহলশূন্য হতে হবে । প্রয়োজনে জল লভ্য হয়, কিন্তু তাদৃশ জলাশয় যেন না হয় যেখানে সর্বদা লোকের গমনাগমন হয় । শরীর রক্ষার যথার্থ আশ্রয় যেন হয়, তবে এমন না হয় যে ধর্মশালার ন্যায় লোকের অনবরত সমাবেশ দেখা যায় । তাৎপর্য এই যে উল্লিখিত বর্ণনা অনুসারে যা সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত এবং যেখানে চক্ষুর পীড়াদায়ী দৃশ্য অনুপস্থিত—এরূপ গুহা আদি প্রবল বায়ুপ্রবাহরহিত একান্ত স্থানে পূর্বোক্ত প্রকারে আসনে উপবিষ্ট হয়ে নিজের মনকে পরমাত্মাতে নিবেশ করার অভ্যাস করতে হবে (গীতা ৬ ।১১)॥ ১০ ॥
সম্বন্ধ—যোগাভ্যাসপরায়ণ সাধকের সাধনায় যথার্থ উন্নতি হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে আগামী মন্ত্রে বলছেন—