সর্বাজীবে সর্বসংস্থে বৃহন্তে অস্মিন্ হংসো ভ্রাম্যতে ব্রহ্মচক্রে ।
পৃথগাত্মানং প্রেরিতারং চ মত্বা জুষ্টস্ততস্তেনামৃতত্বমেতি॥ ৬ ॥
ব্যাখ্যা—পূর্বে যার বর্ণনা করা হয়েছে, যা সকলের জীবন-নির্বাহের হেতু এবং সমস্ত প্রাণিকুলের আশ্রয়স্বরূপ এমন এই জগৎরূপ ব্রহ্মচক্রে অর্থাৎ পরব্রহ্ম পরমাত্মা দ্বারা সঞ্চালিত তথা পরমাত্মারই বিরাট শরীররূপ সংসারচক্রে এই জীবাত্মা নিজ কর্মানুসারে ওই পরব্রহ্ম দ্বারা সঞ্চালিত হন । যতক্ষণ পর্যন্ত জীবাত্মা তাঁর সঞ্চালককে জেনে তাঁর করুণাসিক্ত না হন, নিজেকে তাঁর প্রিয় না করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর এই সংসার চক্র থেকে মুক্তি সম্ভব নয় । যখন জীবাত্মা জ্ঞাত হন যে, তাঁর ইচ্ছায় আমি সংসারচক্রে ভ্রমণ করছি, তাঁর কৃপায় মুক্তি সম্ভব, তখন তিনি পরমেশ্বরের প্রিয় হয়ে তাঁর দ্বারা স্বীকৃত হন (কঠ. ১ ।২ ।২৩ মুণ্ডক. ৩ ।২ ।৩) । তখন জীবাত্মা অমৃত লাভ করেন, জন্মমরণরূপ সংসারচক্র থেকে চিরকালের জন্য মুক্ত হন । পরম শান্তি এবং সনাতন দিব্য পরমাত্মাকে লাভ করেন (গীতা ১৮ ।৬১-৬২)॥ ৬ ॥