পঞ্চস্রোতোঽম্বুং পঞ্চয়োন্যুগ্রবক্রাং পঞ্চপ্রাণোর্মিং পঞ্চবুদ্ধ্যাদিমূলাম্ ।
পঞ্চাবর্তাং পঞ্চদুঃখৌঘবেগাং পঞ্চাশদ্ভেদাং পঞ্চপর্বামধীমঃ ॥৫॥
ব্যাখ্যা—এই মন্ত্রে সংসারকে নদীরূপে বর্ণনা করা হয়েছে । ব্রহ্মজ্ঞ ঋষিগণ বলেন—আমরা এমন এক নদীকে দেখছি, যাতে পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয়ই পাঁচ স্রোত । সংসারের জ্ঞান আমাদের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারাই হয় । এদের মাধ্যমেই সংসারের প্রবাহ বজায় থাকে । এইজন্য ইন্দ্রিয়কুলকে স্রোত বলা হয়েছে । ইন্দ্রিয়গুলি পঞ্চ সূক্ষ্মভূত (তঃ্াত্র) থেকে উৎপন্ন । অতএব এগুলি নদীর পাঁচটি উদ্গম স্থান রূপে স্বীকৃত । এই নদীর প্রবাহ অতীব ভয়ংকর । এতে পতিত হলে বারংবার জন্ম-মৃত্যুর ক্লেশ ভোগ করতে হয় । সংসারের গতি বড়ই বক্র, কপটভাবপূর্ণ । এর থেকে মুক্তিলাভ খুবই দুষ্কর । এইজন্য সংসাররূপ নদীকে বক্র বলা হয়েছে । জাগতিক জীবের যা কিছু প্রচেষ্টা সমস্তই প্রাণ দ্বারা হয় । এইজন্য প্রাণকে ভবসমুদ্রের তরঙ্গমালা বলেছেন । তরঙ্গ মাধ্যমেই নদীর গতির ভাব বোঝ যায় । পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারা চাক্ষুষ আদি পাঁচ প্রকার জ্ঞানের আদি কারণ হল মন । যতই জ্ঞান থাকুক না কেন সবই তো মনের বৃত্তি । মন না থাকলে ইন্দ্রিয় সচেষ্ট হলেও কোনোপ্রকার জ্ঞান হয় না । মনই সংসাররূপ নদীর মূল । মন দ্বারাই সংসারের সৃষ্টি হয় । সম্পূর্ণ জগৎ মনেরই কল্পনা । মন নষ্ট হলে জগতের অস্তিত্ব এইরূপে থাকে না । যাবৎ মন বিদ্যমান, তাবৎ সংসারচক্র বিদ্যমান । ইন্দ্রিয়ের শব্দ, স্পর্শ আদি পাঁচ বিষয়ই হল এই সংসাররূপ নদীতে আবর্ত । এতেই আবদ্ধ হয়ে জীবকুল জন্ম-মৃত্যুচক্রে পরিভ্রমণ করতে থাকে । গর্ভ যন্ত্রণা, জন্ম যন্ত্রণা, জরা, ব্যাধি এবং মৃত্যু যন্ত্রণা—এই পাঁচ প্রকার যন্ত্রণাই এই নদীর বেগরূপ প্রবাহ । এর দ্বারা জীবসমূহ ব্যাকুল থাকে এবং একযোনি থেকে অন্য যোনিতে পরিভ্রমণ করতে থাকে । অবিদ্যা (অজ্ঞান), অস্মিতা (অহংকার), রাগ (আসক্তি), দ্বেষ এবং অভিনিবেশ (মৃত্যুভয়)—এই পঞ্চ ক্লেশই এই সংসাররূপ নদীর পাঁচ পর্ব অর্থাৎ বিভাগ । এই পাঁচ বিভাগে এই জগৎ বিভক্ত । এই পাঁচের সমুদয়ই সংসারের স্বরূপ ।অন্তঃকরণের পঞ্চাশটি বৃত্তিই হল এই নদীর পঞ্চাশটি ভেদ অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রূপ । অন্তঃকরণের বৃত্তিগুলি নিয়েই সংসারে ভেদ প্রতীতি হয় ॥ ৫ ॥