তে ধ্যানযোগানুগতা অপশ্যন্ দেবাত্মশক্তিং স্বগুণৈর্নিগূঢ়াম্ ।
যঃ কারণানি নিখিলানি তানি কালাত্মযুক্তান্যধিতিষ্ঠত্যেকঃ ॥ ৩॥
ব্যাখ্যা—এইভাবে পারস্পরিক বিচার করে তাঁরা যখন যুক্তি দ্বারা এবং অনুমান মাধ্যমে কোনো যথার্থ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারলেন না, তখন তাঁরা ধ্যানস্থ হলেন । নিজেদের মন এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়কুলকে জগৎ-সংসার থেকে নিবৃত্ত করে পরব্রহ্মকে জানার জন্য তচ্চিন্তনে তৎপর হলেন । ধ্যানকালে তাঁরা পরমাত্মতত্ত্ব-মহিমা অনুভব করলেন । তাঁরা পরমদেব পরব্রহ্ম পুরুষোত্তমের স্বরূপভূত অচিন্ত্য দিব্যশক্তির সাক্ষাৎ করলেন, যা নিজ গুণেই সত্ত্ব, রজঃ এবং তমঃ দ্বারা আবৃত অর্থাৎ যিনি দেখতে ত্রিগুণময়ী কিন্তু তিনি ত্রিবিধ গুণাতীত বস্তু । তখন তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, কাল থেকে আত্মা পর্যন্ত যত কারণ পূর্বে উক্ত হয়েছে, ওই সমস্ত কারণের যে অধিষ্ঠাতা স্বামী অর্থাৎ ওই সমস্ত যাঁর আজ্ঞা এবং প্রেরণা পেয়ে, যাঁর ওই শক্তির কোনো এক অংশকে লাভ করে নিজ নিজ কার্য করতে সমর্থ, সেই এক সর্বশক্তিমান পরমেশ্বরই হলেন এই জগতের বাস্তবিক কারণ ॥ ৩ ॥