অতো বক্ষ্যাম্যকার্পণ্যমজাতি সমতাং গতম্।
যথা ন জায়তে কিঞ্চিজ্জায়মানং সমন্ততঃ॥২
অন্বয়: অতঃ (সুতরাং); অকার্পণ্যম্ (ব্রহ্মের স্বরূপ); অজাতি (যার জন্ম নেই); সমতাং গতম্ (সর্বত্র সমানভাবে বিদ্যমান); যথা (স্বরূপত); বক্ষ্যামি (ব্যাখ্যা করব); সমন্ততঃ (সব দিক থেকে); জায়মানম্ (জন্মগ্রহণ করছে); কিঞ্চিৎ (যে কোনও বস্তু); ন জায়তে (জন্মায় না)।
সরলার্থ: যেহেতু উপাসক নির্বোধ, তাই আমি ব্রহ্মের স্বরূপ বর্ণনা করব। এই ব্রহ্ম সর্বত্র সমানভাবে বিদ্যমান। এঁর জন্ম নেই। যখন দেখবে কোন কিছুর জন্ম হচ্ছে নিশ্চিত জেনো ভুল দেখছ—যেমন আমরা দড়িকে সাপ বলে ভুল করি এও তেমনি।
ব্যাখ্যা: উপাসক অজ্ঞান তাই নিজেকে তিনি হীন বলে ভাবেন। উপাসক জানেন না যে তিনি আত্মা। তিনি সর্বত্র বিরাজমান, নির্গুণ এবং সর্বব্যাপী। তিনি মনে করেন তাঁর জন্ম হয়েছে এবং এখন তিনি এই জগতের অন্তর্গত। এই জগৎ এক বৈ দুই নয়। কিন্তু নাম-রূপের জন্য বহুরূপে প্রতিভাত হয়। এই বহু দেখাটা ভুল—কেবল, আত্মাতে নাম-রূপ আরোপ করা হয়েছে মাত্র। এই নাম-রূপ মুছে ফেললে সব ‘এক’ দেখা যায়। এই ‘এক’-ই আত্মা, এই ‘এক’-ই ব্রহ্ম। ইনিই একমাত্র সত্য—ইনি নিত্য, শুদ্ধ, মুক্ত এবং নাম-রূপহীন। ইনি সর্বব্যাপী এবং সর্বজ্ঞ। ইনি বিশুদ্ধ চৈতন্য—কোন কিছুর দ্বারা ইনি প্রভাবিত হন না। এঁর জন্ম হয়নি, কোনদিন মৃত্যুও হবে না। এই আত্মাই সর্বভূতের অন্তরাত্মা। এই আত্মাতেই আমরা স্বরূপত এক।
উপাসক নিজেকে আত্মা থেকে পৃথক বলে মনে করেন। তাই তিনি ক্ষুদ্র। তিনি অজ্ঞান কারণ তিনি জানেন না যে তিনি নিজেরই উপাসনা করছেন। তাঁর স্বরূপজ্ঞান যতদিন না হবে, ততদিন তিনি অসুখী থাকবেন।