অমাত্রোঽনন্তমাত্রশ্চ দ্বৈতস্যোপশমঃ শিবঃ।
ওঙ্কারো বিদিতো যেন স মুনির্নেতরো জনঃ॥২৯
অন্বয়: যেন সঃ (যিনি); অমাত্রঃ (অখণ্ড); অনন্তমাত্রঃ (অসীম); চ দ্বৈতস্য উপশমঃ (এবং সকল দ্বিতত্ত্বের [দুই বোধ] লোপ); শিবঃ (মঙ্গলময়); ওঙ্কারঃ বিদিতঃ (ওঁকারকে জানেন); জনঃ (এমন ব্যক্তি); মুনিঃ (মুনি); ইতরঃ ন (অন্য কেউ নয়)।
সরলার্থ: অখণ্ড, অসীম, অদ্বৈত এবং মঙ্গলময়রূপে যিনি ওঁকারকে জানেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি, অন্য কেউ নয়।
ব্যাখ্যা: এই ওম্ ‘অমাত্র’ অর্থাৎ অখণ্ড। আবার এই ওম্ ‘অনন্তমাত্র’—অপরিমেয়, অর্থাৎ এই ওম্-কে পরিমাপ করা যায় না। তিনিই নিরাকার, তিনিই সাকার। আবার কখনো তিনি অব্যক্ত, কখনো অসংখ্যরূপে ব্যক্ত। ‘দ্বৈতস্য উপশমঃ’—এখানে কোনও দুই বোধ নেই। সকল দ্বিতত্ত্ব তখন ‘ওম্’-এ লীন হয়ে যায়। তখন সেখানে থাকে কেবল শিব, শান্তি এবং আনন্দ। কেন? কারণ, যেখানে দুই বোধই নেই সেখানে দ্বন্দ্ব বা সংগ্রামও নেই। সকল উপনিষদই এই একটি কথা বোঝাতে চাইছেন যে, সমগ্র বিশ্বে একটিমাত্র সত্তা রয়েছেন। আর তিনিই হলেন ব্রহ্ম। যিনি এই সত্যকে জেনেছেন তিনি তো মুক্ত। যেসব বৈচিত্র আমরা দেখি, তা আমাদের মনের ভুল। একই ব্রহ্ম বিভিন্নরূপে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। দ্বৈতকে ভেদ করে আমাদেরকে অদ্বৈতে পৌঁছতে হবে। অজ্ঞানতা নাশ হলে আর দুই বোধ থাকে না।
মুনি কে? যাঁর মন স্বচ্ছ ও সজাগ। বিচারবুদ্ধি-সম্পন্ন পুরুষই হলেন মুনি। আমরা বেশিরভাগ মানুষই মনের সদ্ব্যবহার করি না। কিন্তু যিনি মুনি তিনি তাঁর মনের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেন। তিনি গভীরভাবে মনন বা চিন্তা করেন। যিনি সকলের মধ্যে এক আত্মাকে দেখেন তিনিই প্রকৃত মুনি। সাকার নিরাকার সবের মধ্যে তিনি সেই এক আত্মাকে দেখেন। ‘ইতরঃ ন’—এ অন্য কেউ পারে না।