দ্বা সুপর্ণা সযুজা সখায়া
সমানং বৃক্ষং পরিষস্বজাতে।
তয়োরন্যঃ পিপ্পলং স্বাদ্বত্ত্য-
নশ্নন্নন্যো অভিচাকশীতি॥১
অন্বয়: সযুজা (সর্বদা একসাথে); সখায়া (একরকম); দ্বা সুপর্ণা (সুন্দর পালক যুক্ত দুটি পাখি); সমানং বৃক্ষম্ (একই বৃক্ষে); পরিষস্বজাতে (পরস্পর আলিঙ্গন করে আছে); তয়োঃ (তাদের মধ্যে); অন্যঃ (একটি); স্বাদু পিপ্পলম্ (মিষ্টি ফল); অত্তি (খায়); অন্যঃ (অন্যটি); অনশ্নন্ অভিচাকশীতি ([ফল] খাওয়ার বদলে কেবল দেখে)।
সরলার্থ: সুন্দর পালকযুক্ত একই রকম দেখতে দুটি পাখি সবসময় একই গাছে থাকে। তাদের মধ্যে একটি পাখি সুমিষ্ট ফল খাচ্ছে এবং অন্যটি কিছু না খেয়ে কেবল দেখছে।
ব্যাখ্যা: উপনিষদ আমাদের বোঝাতে চাইছেন কিভাবে জীবাত্মা ও পরমাত্মা একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এখানে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। জীবাত্মা ও পরমাত্মাকে একই গাছের দুটি পাখির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ‘দ্বা সুপণা’—দুটি পাখি। ‘সুপর্ণা’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘সুন্দর পালক’। এই পাখি দুটি ‘সযুজা’—পরস্পর অন্তরঙ্গ, এবং ‘সখায়া’—পরস্পর সদৃশ। তারা দেখতে একইরকম এবং পরস্পর অন্তরঙ্গ। ‘সমানং বৃক্ষম্’—একই বৃক্ষে তারা বসে আছে। তাদের মধ্যে একটি পাখি (অর্থাৎ জীবাত্মা) টক মিষ্টি ইত্যাদি নানা স্বাদের ফল খাচ্ছে। অন্য পাখিটি কিছুই খাচ্ছে না, চুপচাপ বসে আছে। সে শান্ত এবং অচঞ্চল। ‘অভিচাকশীতি’—সে শুধু দেখছে। যে পাখিটি ফল খেতে মত্ত সে কখনও সুখী, কখনও অসুখী। কিন্তু অন্য পাখিটি নির্লিপ্ত, সাক্ষী, দ্রষ্টা।
অনুরূপভাবে পরমাত্মা সবসময়ই শান্ত, আত্মস্থ। তিনি সাক্ষী-মাত্র। অপরদিকে জীবাত্মা চঞ্চল, অস্থির। সে বাসনা দ্বারা তাড়িত এবং নিজ অভিজ্ঞতা অনুসারে কখনও সুখী, কখনও দুঃখী। জীবাত্মা নানা পরিস্থিতির অধীন; আর এই জন্যই সে সবসময় সুখদুঃখের দোলায় দুলছে। এইভাবে জীবাত্মার পরিবর্তন হয়ে চলেছে। আপাতদৃষ্টিতে পাখি দুটিকে আলাদা বলে মনে হলেও এরা কিন্তু ভিন্ন নয়। তাদের আচরণের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু আসলে তারা এক ও অভিন্ন।