সুষুপ্তস্থানঃ প্ৰাজ্ঞো মকারস্তৃতীয়া মাত্রা মিতেরপীতের্বা
মিনোতি হ বা ইদং সর্বমপীতিশ্চ ভবতি য এবং বেদ॥১১
অন্বয়: সুষুপ্তস্থানঃ প্রাজ্ঞঃ (প্রাজ্ঞ হল সেই অবস্থা যেখানে আত্মা গভীর স্বপ্নহীন নিদ্রা উপভোগ করেন); মকারঃ তৃতীয় মাত্রা (এটি তৃতীয় অবস্থা [‘অউম’-এর ম-এর তুল্য]); মিতেঃ (পরবর্তী [বিশ্ব ও তৈজসের]); অপীতেঃ (একত্বে লীন হবার এটি তোরণদ্বার); যঃ এবং বেদ (যিনি এই একাত্মতা অনুভব করেন); ইদং সর্বং [জগৎ] মিনোতি (এই জগৎকে [জানেন]); চ অপীতিঃ ভবতি (এবং এর বিশ্রামস্থল হয়ে ওঠেন)।
সরলার্থ: সুষুপ্তি অবস্থার আত্মা তথা প্রাজ্ঞকে ‘অউম’-এর তৃতীয় অক্ষর ‘ম’-এর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে অ এবং উ-এর সাথে যথাক্রমে বিশ্ব এবং তৈজসের সমাপ্তি ঘটে সেখানেই প্রাজ্ঞ এবং ম উভয়েরই অবস্থান। প্রাজ্ঞ এবং ম হল একত্বে বিলীন হয়ে যাওয়ার সিংহদ্বার। যিনি একথা জানেন তিনি এ জগৎকে জানেন, এবং জগতের বিশ্রামস্থল হয়ে ওঠেন।
ব্যাখ্যা: প্রাজ্ঞ অবস্থা হল সুষুপ্তি অবস্থার আত্মা। ‘অউম’—এর ম-কারের সাহায্যে এই অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়। বিশ্ব এবং তৈজস প্রাজ্ঞে লীন হয়। ঠিক একইভাবে অ এবং উ উভয়েই ম-কারে লীন হয়। প্রাজ্ঞ এবং ম-কারেই দ্বৈতদৃষ্টির সমাপ্তি ঘটে। দ্বৈত এবং অদ্বৈতের মাঝে এদের অবস্থান। এসবের ঊর্ধ্বে হল তুরীয় অবস্থা যা শুদ্ধ চৈতন্য, পরমাত্মা। যখন মানুষ এই অবস্থা প্রাপ্ত হন তখন সমগ্র বিশ্বের সাথে তিনি একাত্মতা অনুভব করেন। তখন সমগ্র বিশ্বে শুধুমাত্র একটি সত্তাই বিরাজ করেন। আর তা হল আত্মা।