সাংসিদ্ধিকী স্বাভাবিকী সহজা অকৃতা চ যা।
প্রকৃতিঃ সেতি বিজ্ঞেয়া স্বভাবং ন জহাতি যা॥৯
অন্বয়: যা সাংসিদ্ধিকী (যা যোগ সাধনার দ্বারা অর্জন করা যায়); স্বাভাবিকী (যা স্বাভাবিক [যেমন আগুনের উত্তাপ]); সহজা (যা জন্মগত [যেমন পাখীর ডানা]); চ অকৃতা (যা কেউ সৃষ্টি করেনি); যা স্বভাবং ন জহাতি (যা নিজের স্বভাব পরিবর্তন করে না); সা ইতি বিজ্ঞেয়া প্রকৃতিঃ (তাই প্রকৃতি বলে পরিচিত)।
সরলার্থ: যা যোগ সাধনার বলে লাভ করা যায়, যা স্বাভাবিক, যা জন্মগত, যা কারও সৃষ্টি নয় বা যা কখনো নিজের স্বভাব পরিবর্তন করে না—তাই প্রকৃতি বলে পরিচিত।
ব্যাখ্যা: আত্মা স্বভাবত অবিনাশী। এর অন্যথা হয় না। আত্মা কখনো বিনাশশীল হতে পারে না।
কিন্তু প্রকৃতি শব্দটির অর্থ কি? একটি বস্তুর প্রকৃতি বলতে তার মূল স্বভাবকে বোঝায়। এই প্রকৃতিই বস্তুটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী। কখনো কখনো আমরা এমন যোগীপুরুষের সন্ধান পাই, যাঁরা অলৌকিক শক্তির অধিকারী। সেই শক্তি তাঁদের চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠে। যোগীপুরুষ সেইসব শক্তি সাধারণত হারান না। আরও সঠিক দৃষ্টান্ত আগুন ও তার উত্তাপ। আগুন স্বভাবতই উত্তপ্ত। উত্তাপহীন আগুন কল্পনাও করা যায় না, কারণ আগুন ও তার উত্তাপ অবিচ্ছেদ্য।
সেইভাবে পাখি এবং তার ডানা—একই সঙ্গে এদের জন্ম এবং এরা অচ্ছেদ্য। আবার পাখির উড়ার ক্ষমতাও তার সহজাত। আরেকটি দৃষ্টান্ত—জলের গতি স্বভাবত নিম্নমুখী। কোন অবস্থাতেই এইসব ক্ষণস্থায়ী বস্তু তাদের স্বভাব পরিবর্তন করে না। অতএব অবিনাশী আত্মা স্বভাব পরিবর্তন করে বিনাশশীল হবে সে প্রশ্নই ওঠে না।