ক্ৰমতে ন হি বুদ্ধস্য জ্ঞানং ধর্মেষু তায়িনঃ॥
সর্বে ধর্মাস্তথা জ্ঞানং নৈতদ্বুদ্ধেন ভাষিতম্॥৯৯
অন্বয়: বুদ্ধস্য জ্ঞানং ধর্মেষু ন হি ক্ৰমতে (জ্ঞানী কখনো [ব্রহ্ম ব্যতীত] অন্য বস্তুর চিন্তা করেন না); তায়িনঃ (অবিভক্ত); সর্বে ধর্মাঃ তথা জ্ঞানম্ [ন ক্ৰমতে] (সেই-প্রকার, বরণীয় জীবাত্মাসকল ও তাঁদের জ্ঞান [অর্থাৎ তাঁদের মন আর অন্য কোন দিকে ঘোরে না। তাঁরা সর্বদা আত্মচিন্তায় মগ্ন, অন্য কিছুর সত্তা তাঁরা স্বীকার করেন না]); এতৎ বুদ্ধেন ন ভাষিতম্ (বুদ্ধদেব এ বিবৃতি কখনো দেননি [অথবা এ বুদ্ধদেবের মত নয়])।
সরলার্থ: যিনি আত্মাকে জেনেছেন তিনি (ব্রহ্ম চিন্তা ছাড়া) অন্য কোনও চিন্তা করেন না। তাঁর মন সতত অভিন্ন। (কারণ তাঁর মনে আর দুই এর স্থান নেই।) এ জগতের সবকিছুকে (জীবাত্মা ও অন্যান্য সমস্ত বস্তু) তিনি শ্রদ্ধা করেন। কারণ তিনি সর্বভূতে সেই এক আত্মাকে দেখেন। সুতরাং কোন কিছুই তাঁর মনকে ব্রহ্মের চিন্তা থেকে সরিয়ে আনতে পারে না। বুদ্ধদেব এমন কথা কখনো বলেননি।
ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি আত্মাকে জেনেছেন তিনি আত্মচিন্তা ব্যতীত অন্য চিন্তা করতে পারেন না। তাঁর মন আত্মাতে স্থির। আত্মা আকাশের মতো সর্বব্যাপী। জ্ঞানও আকাশের তুল্য এবং সর্বত্র বিরাজমান। আকাশ যেমন কোন কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হয় না তেমনি কোনও কিছুই জ্ঞানের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।
জীবাত্মাসকল আকাশের মতো রূপহীন, শাশ্বত, এক ও অদ্বিতীয়। জীবাত্মা পরমাত্মা থেকে পৃথক নয়। জীবাত্মাই পরমাত্মা। শাস্ত্র বলেন আত্মা কখনই জ্ঞানবর্জিত নয়।
আত্মাই একমাত্র সত্য আর বাইরের সব বস্তু মিথ্যা—এই সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বৌদ্ধমতের কাছাকাছি হলেও এটি যথার্থ বৌদ্ধদর্শন নয়। বৌদ্ধদর্শন ও অদ্বৈতবাদের মধ্যে একটা মৌল পার্থক্য আছে, তা হল : জ্ঞান, জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয় অভিন্ন, অদ্বৈতবাদীর এই সিদ্ধান্ত বৌদ্ধদর্শন স্বীকার করে না।