অলব্ধারণাঃ সর্বে ধর্মাঃ প্রকৃতিনির্মলাঃ।
আদৌ বুদ্ধাস্তথা মুক্তা বুধ্যন্ত ইতি নায়কাঃ॥৯৮
অন্বয়: সর্বে ধর্মাঃ (সব আত্মা); অলব্ধ আবরণাঃ (অজ্ঞানতার আবরণ যার নেই); প্রকৃতি নির্মলাঃ (শুদ্ধ স্বভাব); আদৌ (পূর্বেও); বুদ্ধাঃ তথা মুক্তাঃ (প্রজ্ঞাবান বা অজ্ঞানতার বন্ধনমুক্ত); বুধ্যন্তে (তাঁরা আত্মাকে জানেন); ইতি (এইভাবে); নায়কাঃ (বেদান্তের আচার্যরা [ঘোষণা করেন])।
সরলার্থ: আত্মা কখনই অজ্ঞানতার আবরণে আবৃত ছিলেন না। যিনি আত্মাকে জেনেছেন তিনি সতত শুদ্ধ, জ্ঞানস্বরূপ ও মুক্ত। বেদান্তের আচার্যরা আত্মাকে এইভাবেই প্রচার করেন।
ব্যাখ্যা: অদ্বৈতবাদীরা এখানে তাঁদের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে আত্মা নিত্যমুক্ত। আত্মা কোন দিনই অজ্ঞানতার আবরণে ঢাকা নন। কখনই তাঁর কোনও বন্ধন ছিল না।
তবে কেন বলা হয় ‘আত্মা জানেন’? আত্মা যদি জ্ঞানস্বরূপ হন তবে সেই জ্ঞান কিভাবে জ্ঞাতা হতে পারে? উক্তিটির উদ্দেশ্য একটিই, জ্ঞান যে আত্মার স্বরূপ সেই কথাটির উপর জোর দেওয়া। আর একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। বলা হয় সূর্য কিরণ দিচ্ছে। উজ্জ্বলতা (কিরণ) সূর্যের স্বভাব, তবু সাধারণভাবে সূর্যের উজ্জ্বলতার উপর জোর দেওয়াই এই উক্তিটির উদ্দেশ্য। এছাড়া অন্য কোনও বিশেষ তাৎপর্য নেই। আরও একটি দৃষ্টান্ত : ‘ওখানে পাহাড়গুলি আছে।’ সুদূর অতীত থেকেই ঐসব পাহাড় ওখানে ছিল এবং ভবিষ্যতেও বহুদিন থাকবে। উক্তিটি তথ্যপূর্ণ এর বিশেষ কোনও অর্থ নেই। ‘আত্মা জানেন’—এই উক্তিটিও উপরোক্ত বিবৃতিগুলির মতো, বিশেষ কোনও তাৎপর্য নেই।