হেয়জ্ঞেয়াপ্যপাক্যানি বিজ্ঞেয়ান্যগ্রয়াণতঃ।
তেষামন্যত্র বিজ্ঞেয়াদুপলম্ভস্ত্ৰিষু স্মৃতঃ॥৯০
অন্বয়: অগ্রয়াণতঃ (প্রথমে); হেয় (ত্যাগ করতে হয় [তিন অবস্থা—জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি]); জ্ঞেয় (জ্ঞাতব্য বিষয় [পরম সত্য—ব্রহ্ম]); আপ্য (অর্জন করতে হয় [শাস্ত্রজ্ঞান, শিশুসুলভ স্বভাব, এবং নীরবতার অভ্যাস]); পাক্যানি (সংযত করতে হয় [রাগ, ঘৃণা ইত্যাদি]; বিজ্ঞেয়ানি (যত্নসহকারে লক্ষ্য করতে হবে); বিজ্ঞেয়াৎ অন্যত্র (আত্মা ব্যতীত); ত্ৰিষু (তিনের মধ্যে [অর্থাৎ ত্যাগ করতে হবে, অর্জন করতে হবে এবং সংযত করতে হবে]); [সারবস্তু বলে কিছু নেই] তেষাম্ উপলম্ভঃ (যদিও ওদের অস্তিত্ব তুমি অনুভব করতে পার)।
সরলার্থ: (মুমুক্ষু ব্যক্তি হিসেবে) সাধককে তিনটি অবস্থা প্রথমেই এড়িয়ে চলতে হবে (জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থা যে তোমার আছে, সেই ধারণাকে মুছে ফেলতে হবে)। আর আত্মজ্ঞান লাভ করতে হবে (অর্থাৎ আত্মজ্ঞান লাভের জন্য একাগ্র হতে হবে), শাস্ত্রজ্ঞান লাভ করতে হবে, বালকসুলভ স্বভাব এবং নীরব থাকার অভ্যাস করতে হবে, আর রাগ-দ্বেষ প্রভৃতি স্বাভাবিক দুর্বলতাগুলিকে নিজের বশে আনতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আত্মজ্ঞান ছাড়া এই তিনের (অর্থাৎ বর্জন করতে হবে, অর্জন করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে) কোনও মূল্য নেই। সাধক এগুলির অস্তিত্বকে কেবল অনুভব করতে পারে।
ব্যাখ্যা: জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থা আত্মায় আরোপিত হয়ে থাকে, এগুলি সত্য নয়। রজ্জুতে সর্পভ্রমের মতোই এগুলি ভ্রান্তিমাত্র। আত্মজ্ঞান লাভ করতে হলে ইন্দ্রিয়সুখকে পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। যেমন, সম্পদ, সন্তান বা স্বর্গ, সাধক তখন এসবের কিছুই কামনা করেন না। সাধককে শাস্ত্রপাঠ, শিশুসুলভ সারল্য ও নীরবতার অভ্যাস করতে হবে। সবসময় একথাটি মনে রাখতে হবে ব্রহ্মই একমাত্র সত্য আর সব মিথ্যা।