কোট্যশ্চতস্র এতাস্তু গ্রহৈর্যাসাং সদাঽঽবৃতঃ।
ভগবানাভিরস্পৃষ্টো যেন দৃষ্টঃ স সর্বদৃক্॥৮৪
অন্বয়: এতাঃ চতস্রঃ কোট্যঃ (এই চারটি গোষ্ঠী); যাসাম্ (যাঁদের); গ্রহৈঃ (মোহমুগ্ধতা [নিজ মতবাদের প্রতি]); সদা (সর্বদা); আবৃতঃ (অবগুণ্ঠিত); ভগবান্ (আত্মা); যেন (প্রাজ্ঞ ব্যক্তি); আভিঃ (এমন সব মানুষ [যাঁরা আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক করেন]); অস্পৃষ্টঃ (ঊর্ধ্বে [ওই চার মতবাদের]); দৃষ্টঃ ([সেইভাবে] দেখা যায়); সঃ সর্বদৃক্ (তিনি সর্বজ্ঞ)।
সরলার্থ: এই চারটি দার্শনিক মতবাদীদের কাছে আত্মা সর্বদাই নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। এর কারণ নিজ নিজ মতের প্রতি এঁরা মোহমুগ্ধ। কিন্তু এই চার মতবাদের ঊর্ধ্বে গিয়ে যে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি জ্যোতির্ময় আত্মার দর্শন লাভ করেন তিনি প্রকৃতই সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা: আত্মা সম্বন্ধে যে কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হল আত্মাকে বর্ণনা করা যায় না। এ নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে অবিরাম বিতর্ক চলে, কিন্তু এইসব তর্কবিচার নিরর্থক। এঁরা নিজেদের অত্যন্ত বুদ্ধিমান বলে মনে করেন। কিন্তু এত বাগ্বিতণ্ডায় তাঁদের অজ্ঞতাই প্রকাশ পায়। এঁদের আত্মজ্ঞান লাভের আশা সুদূরপরাহত।
যিনি বুঝেছেন আত্মা বিতর্কের বিষয় নয় তিনি আত্মাকে জানেন। তিনি যথার্থই প্রাজ্ঞ।