অস্তি নাস্ত্যস্তি নাস্তীতি নাস্তি নাস্তীতি বা পুনঃ।
চলস্থিরোভয়াভাবৈরাবৃণোত্যেব বালিশঃ॥৮৩
অন্বয়: বালিশঃ (নির্বোধ); অস্তি নাস্তি অস্তি নাস্তি নাস্তি নাস্তি ইতি বা (আত্মা আছেন, আত্মা নেই, আত্মা আছেনও আবার নেইও, আত্মা নেই, অবশ্যই নেই ইত্যাদি); পুনঃ চল-স্থির-উভয়-অভাবৈঃ আবৃণোতি (কখনো চলমান, কখনো স্থির, কখনো উভয়ই, কখনো নেই—এইভাবে আত্মাকে আবৃত করে রাখে)।
সরলার্থ: নির্বোধ ব্যক্তি কখনো মনে করে আত্মা আছেন কখনো মনে করে নেই, আবার কখনো মনে করে আত্মা আছেনও বটে নেইও বটে। এইভাবে আত্মাকে কখনো স্থির, কখনো চঞ্চল, কখনো দুই-ই ইত্যাদি ভেবে নির্বোধ ব্যক্তি আত্মাকে আবৃত করে রাখে।
ব্যাখ্যা: এমন বহু দার্শনিক গোষ্ঠী আছেন যাঁরা ‘আত্ম অদ্বয়’ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁরা যে যাঁর মতে এতটাই মুগ্ধ যে আসল সত্যটি তাঁদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আত্মা সম্পর্কে তাঁরা আক্ষরিক অর্থে অন্ধ। আত্মাকে যেন তাঁরা অবগুণ্ঠনের আড়ালে সরিয়ে রেখেছেন।
অদ্বৈতবিরোধী চারটি প্রধান দার্শনিক মত আছে। এঁদের মধ্যে বৈশেষিকরা বলেন: আত্মার অস্তিত্ব আছে কিন্তু আত্মার পরিবর্তন হয়। আত্মা কখনো সুখী কখনো দুঃখী। অবশ্য তাঁদের মতে আত্মা দেহ থেকে স্বতন্ত্র।
আর এক বিরোধী দার্শনিক মত হল বৌদ্ধদর্শন। তাঁরা বিশ্বাস করেন বস্তুর অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী। এঁরা বিজ্ঞানবাদী বা আত্মগত ভাববাদী বলে পরিচিত। এই মত অনুসারে মনই আত্মা এবং বস্তুর সঙ্গে যোগ হলে এর ক্রমাগত পরিবর্তন হয়।
দিগম্বর জৈনরা বলেন : আত্মা আছেও বটে, নেইও বটে। যতক্ষণ দেহের অস্তিত্ব আছে ততক্ষণই আত্মার অস্তিত্ব। দেহের মৃত্যুর সঙ্গেই আত্মারও মৃত্যু হয়। আবার দেহ বড় বা ছোট হলে আত্মাও বড় বা ছোট হয়।
বৌদ্ধদের আর এক শাখা আছে যাঁরা শুন্যবাদী বলে পরিচিত। এঁদের মতে আত্মা বলে কিছু নেই। পরম সত্য হল শূন্য। এঁদের বলা হয় নাস্তিবাদী (Nihilist)।