অজঃ কল্পিতসংবৃত্যা পরমার্থেন নাপ্যজঃ।
পরতন্ত্রাভিনিষ্পত্ত্যা সংবৃত্যা জায়তে তু সঃ॥৭৪
অন্বয়: [আত্মাকেও] কল্পিত সংবৃত্যা (কল্পিত ব্যবহারিক দৃষ্টিতে [বলা হয়]); অজঃ (জন্মহীন); পরমার্থেন অজঃ অপি ন (পারমার্থিক দৃষ্টিতে জন্মহীনও নয়); সঃ (ইহা [জন্মহীন]); তু (কিন্তু); পরতন্ত্রাভিঃ নিষ্পত্ত্যা (অন্যান্য মতের শাস্ত্র অনুসারে); সংবৃত্যা (অবিদ্যায়); জায়তে (জন্ম হয়েছে বলা হয়)।
সরলার্থ: যদি বলা হয় আত্মার জন্ম নেই, তা শুধুমাত্র ব্যবহারিক দৃষ্টিতেই বলা হয়ে থাকে। পারমার্থিক দৃষ্টিতে আত্মাকে জন্মহীনও বলা যায় না। কিন্তু অন্যান্য দার্শনিক গোষ্ঠী অজ্ঞানতাবশত আত্মার জন্ম হয়েছে বলে বর্ণনা করেন।
ব্যাখ্যা: সঠিকভাবে বলতে গেলে আত্মাকে ‘জন্মরহিত’ও বলা যায় না। এই ধরনের উক্তি অজ্ঞানতার পরিচয় দেয়। একথা জেনেও যে অদ্বৈতবাদীরা আত্মাকে জন্মরহিত বলেন তা কেবলমাত্র প্রতিপক্ষকে (যাঁরা আত্মার জন্মে বিশ্বাসী) তাঁদের মতকে খণ্ডন করার জন্য। বস্তুত আত্মা সম্পর্কে কোন কথা বলাই নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। যদি একান্তই কিছু বলতে হয় তা কেবলমাত্র মিথ্যাকে খণ্ডন করার জন্য।