চরঞ্জাগরিতে জাগ্রদিক্ষু বৈ দশসু স্থিতান্।
অণ্ডজান্ স্বেদজান্ বাঽপি জীবান্পশ্যতি যান্সদা॥৬৫
জাগ্রচ্চিত্তেক্ষণীয়াস্তে ন বিদ্যন্তে ততঃ পৃথক্।
তথা তদ্দৃশ্যমেবেদং জাগ্রতশ্চিত্তমিষ্যতে॥৬৬
অন্বয়: জাগ্রৎ জাগরিতে চরন (যেমন জাগ্রত অবস্থায় মানুষ ঘুরে বেড়ায়); দশসু দিক্ষু (সব দিকে); স্থিতান্ যান্ অণ্ডজান্ স্বেদজান্ বা অপি জীবান্ সদা পশ্যতি (অণ্ডজ প্রাণী, স্বেদজ কীট ও অন্যান্য জীব দেখে)।
তে জাগ্রচ্চিত্তেক্ষণীয়াঃ (জাগ্রত অবস্থায় মানুষের মনে তারা [এইসব প্রাণীরা] ধরা পড়ে); ততঃ পৃথক্ ন বিদ্যন্তে (মন থেকে পৃথক কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই); তথা (একইভাবে); জাগ্রতঃ ইদং চিত্তং তদ্দৃশ্যম্ এব ইষ্যতে (যেহেতু জাগ্রত অবস্থায় মানুষের মন শুধু তার নিজের কাছেই ধরা পড়ে, অতএব সে ও তার মন অভিন্ন)।
সরলার্থ: জাগ্রত অবস্থায় একজন ব্যক্তি চতুর্দিকে ঘুরে বেড়ায় এবং অণ্ডজ প্রাণী, স্বেদজ কীট ও অন্যান্য প্রাণী দেখে থাকে। এইসব প্রাণী কেবলমাত্র জাগ্রত ব্যক্তিরই মনের গোচর। এইসব প্রাণী বা বস্তু তার মন থেকে পৃথক হতে পারে না। অনুরূপভাবে, মানুষের নিজের মনও নিজের কাছেই ধরা পড়ে। আর সেইহেতু মনও ব্যক্তির থেকে স্বতন্ত্র নয়।
ব্যাখ্যা: জাগ্রত অবস্থায় যে নানা বস্তু দেখা যায় সেই অভিজ্ঞতা একান্তভাবেই মনের ব্যাপার। এর কারণ সেই অভিজ্ঞতা ওই মনেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ স্বপ্নের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনীয়। মূলকথা হল ব্যক্তিমানুষ ও তার মন এক এবং অভিন্ন।