বিজ্ঞানে স্পন্দমানে বৈ নাভাসা অন্যতোভুবঃ।
ন ততোঽন্যত্র নিস্পন্দান্ন বিজ্ঞানং বিশন্তি তে॥৫১
অন্বয়: বিজ্ঞানে স্পন্দমানে বৈ আভাসাঃ (যখন চৈতন্য প্রকাশিত হয়, কেবলমাত্র তখনি এই দৃশ্য-জগৎ ও তার কার্য [জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি] দেখা যায়); অন্যতোভুবঃ ন (সেগুলির অন্য কোনও উৎস নেই); নিস্পন্দাৎ (যদি চৈতন্যের প্রকাশ না ঘটে); ততঃ অন্যত্র ন (তাদের অন্য কোনও আশ্রয় নেই); তে (এই জগৎ ও তার কার্য); বিজ্ঞানং ন বিশন্তি (চৈতন্যে বিলীন হয় না [কারণ সেগুলি কাল্পনিক])।
সরলার্থ: চৈতন্য যখন প্রকাশ পায় তখন এই জগৎ ও তার কার্যও প্রকাশ পায়। এইগুলির আর কোন উৎস নেই। কিন্তু চৈতন্যের প্রকাশ না হলে এই জগতেরও প্রকাশ থাকে না। কিন্তু এগুলি চৈতন্যে বিলীনও হয় না। কারণ এগুলি অবস্তু, অর্থাৎ অলীক এবং মিথ্যা।
ন নির্গতান্তে বিজ্ঞানাদ্ দ্রব্যত্বাভাবযোগতঃ।
কাৰ্য্যকারণতাঽভাবাদ্যতোঽচিন্ত্যাঃ সদৈব তে॥৫২
অন্বয়: তে (জন্মাদি আপাতদৃশ্য অভিজ্ঞতাসকল); দ্রব্যাত্বাভাবযোগতঃ (যেহেতু তারা অবস্তু অর্থাৎ অলীক); বিজ্ঞানাৎ ন নির্গতাঃ (চৈতন্য থেকে উৎপন্ন হতে পারে না); যতঃ (কারণ); তে (তারা [আপাতদৃশ্য অভিজ্ঞতাগুলি]); কার্য্য-কারণতা-অভাবাৎ (চৈতন্যের সঙ্গে কার্য-কারণ সম্পর্ক নেই); সদা এব অচিন্ত্যাঃ (সেগুলি অচিন্তনীয় [অর্থাৎ মিথ্যা])।
সরলার্থ: জন্মমৃত্যু ইত্যাদি আপাতদৃশ্য অভিজ্ঞতাগুলির কোন পারমার্থিক সত্তা নেই। সুতরাং সেগুলি অবস্তু। এদের উৎপত্তি চৈতন্য থেকে হতে পারে না কারণ দুয়ের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে আমরা যা কিছু দেখি তার কোন বাস্তব সত্তা নেই।
ব্যাখ্যা: জ্বলন্ত মশাল ও চৈতন্যের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু উভয়ের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে: চৈতন্য স্বভাবতই অপ্রকাশিত, কিন্তু জ্বলন্ত মশাল তা নয়।
চৈতন্য যদি স্বভাবতই অব্যক্ত হয় তবে জন্মমৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো দেখা যায় কেন? এসবের জন্য চৈতন্য দায়ী নয়। এগুলি সবই মিথ্যা, চৈতন্যের উপর আরোপিত উপাধিমাত্র।