অস্পন্দমানমলাতমনাভাসমজং যথা।
অস্পন্দমানং বিজ্ঞানমনাভাসমজং তথা॥৪৮
অন্বয়: যথা (যেমন); অস্পন্দমানম্ অলাতম্ (মশালটি যদি ঘোরানো না হয়); অনাভাসম্ (দৃষ্টি আকর্ষণ করে না); অজম্ (যেন এটি সেখানে নেই); তথা (সেইভাবে); অস্পন্দমানং বিজ্ঞানম্ (যদি চৈতন্য অপ্রকাশিত হয়); অনাভাসম্ অজম্ (তখন তা ইন্দ্রিয়ের গোচর নয়, যেন এর আদৌ জন্মই হয়নি)।
সরলার্থ: যদি জ্বলন্ত মশালটি স্থির থাকে এটি কারও নজরে নাও পড়তে পারে (কারণ তখন এ একটি আলোকবিন্দু মাত্র)—মনে হয় যেন এর কোন অস্তিত্বই নেই। সেইভাবে চৈতন্যও যদি কোন না কোন রূপে প্রকাশিত না হন তাহলে তিনি ইন্দ্রিয়ের গোচর হন না। তখন তাঁর অস্তিত্ব নেই বলেই মনে হয়।
ব্যাখ্যা: বাতি যদি অচঞ্চল থাকে তবে তা দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে। যেন বাতিটির আদৌ অস্তিত্ব নেই। সেইভাবে চৈতন্যও কখনো কখনো অপ্রকাশিত থাকতে পারে। তখন আর দুই থাকে না অর্থাৎ কোন নাম-রূপ থাকে না। যা থাকে তা শুধুই ব্রহ্ম, চৈতন্য বা আত্মা। তখন আর জ্ঞাতা বা জ্ঞেয় নেই, সেই এক ব্রহ্মই আছেন। তখনি সব অবিদ্যার অবসান হয়।