ঋজুবক্রাদিকাভাসমলাতস্পন্দিতং যথা।
গ্রহণগ্রাহকাভাসং বিজ্ঞানস্পন্দিতং তথা॥৪৭
অন্বয়: অলাতস্পন্দিতং যথা ঋজুবক্রাদিকাভাসম্ (একটি জ্বলন্ত মশালকে যদি ঘোরানো যায়, তার আলোর রেখা কখনো সোজা, কখনো বাঁকা, কখনো বা অন্য কিছু বলে মনে হয়); তথা বিজ্ঞানং স্পন্দিতম্ (সেইভাবে [অজ্ঞানীর দৃষ্টিতে] চৈতন্যও [তাঁর নাম ও রূপ] বদলায়); গ্রহণগ্রাহকাভাসম্ (এই চৈতন্য কখনো জ্ঞাতা কখনো জ্ঞেয় [এবং কখনো কারণ, কখনো কার্য])।
সরলার্থ: একটি জ্বলন্ত মশালকে ঘোরালে তার আলোর রেখা কখনো সোজা, কখনো বাঁকা আবার কখনো বা অন্য কিছু বলে মনে হয় (যদিও প্রকৃতপক্ষে আলোকরশ্মি সবসময় সোজা)। ঠিক একইভাবে চৈতন্যের পরিবর্তনও প্রতিভাত হয়—একই চৈতন্য কখনো জ্ঞাতা, কখনো জ্ঞেয়, কখনো কারণ, কখনো কার্য (যদিও চৈতন্য সতত অপরিবর্তিত)।
ব্যাখ্যা: আলোর রেখা সবসময়ই সোজা। কিন্তু আলোর উৎসকে দ্রুত ঘোরালে আলোর রেখা অন্যরকম দেখায়। তার মানে এই নয় এর আকারের পরিবর্তন হচ্ছে। একইভাবে চৈতন্যেরও কখনো পরিবর্তন হয় না, অপরিবর্তিতই থাকে। কিন্তু যেহেতু এই চৈতন্য সব বস্তুর মধ্যে নিহিত রয়েছে সুতরাং বিভিন্ন বস্তুরূপেই চৈতন্য প্রতিভাত হয়। শুধু তাই নয় বস্তুর পরিবর্তন হলে অজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে বুঝি চৈতন্যের পরিবর্তন হচ্ছে। এইভাবে জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি চৈতন্যের উপর আরোপ করা হয়েছে। আসলে শুদ্ধ চৈতন্য এক ও অভিন্ন।