অজাতেস্ত্রসতাং তেষামুপলম্ভাদ্বিয়ন্তি যে।
জাতিদোষা ন সেৎস্যন্তি দোষোঽপ্যল্পো ভবিষ্যতি॥৪৩
অন্বয়: অজাতেঃ এসতাম্ (জন্ম নেই এই সত্যের মুখোমুখি হতে যাঁরা ভয় পান); তেষাম্ (তাঁদের [দ্বৈতবাদীদের] মধ্যে); যে (যাঁরা); উপলম্ভাৎ (বাহ্যবস্তুর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে); বিয়ন্তি ([অদ্বৈতবাদের] বিরোধিতা করেন); জাতিদোষাঃ ন সেৎস্যন্তি (উৎপত্তি আছে এই তত্ত্বে বিশ্বাসী [অর্থাৎ দ্বৈতবাদ ও দ্বৈত উপাসনায় বিশ্বাসী] হওয়ায় তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না); দোষঃ অপি অল্পঃ ভবিষ্যতি (এটি ভুল হতে পারে, কিন্তু সাঙ্ঘাতিক নয়)।
সরলার্থ: কোন কিছুই জন্মায় না—এই সত্যের মুখোমুখি হতে যাঁরা (দ্বৈতবাদীরা) ভয় পান তাঁদের মধ্যে অনেকে আছেন যাঁরা অদ্বৈতবাদের বিরোধিতা করেন কারণ তাঁরা সর্বত্র দুই দেখেন। এঁরা দ্বৈত উপাসনাও করে থাকেন। এটি ভুল হতে পারে কিন্তু সাঙ্ঘাতিক ভুল নয় (কারণ তাঁরা সৎ ও অকপট এবং কালে তাঁরা অদ্বৈততত্ত্ব ধারণা করতে সক্ষম হবেন)।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদীদের মধ্যে কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা দ্বৈতবাদকে নির্বিচারে গ্রহণ করেন। তাঁদের মনোভাবের কখনো পরিবর্তন হয় না। আবার কিছু দ্বৈতবাদী আছেন যাঁদের কাছে অদ্বৈততত্ত্ব যুক্তিগ্রাহ্য নয় কারণ তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বিপরীত কথাই বলে। এঁরা সত্যকে প্রকৃতই জানতে চান। তাঁরা অকপট ও আন্তরিক এবং সাধুজীবন যাপন করেন। কালে তাঁরা অদ্বৈতবাদ মেনে নেবেন। এই মুহূর্তে যে তাঁরা অদ্বৈততত্ত্ব গ্রহণ করতে পারছেন না এটি তাঁদের ত্রুটি ঠিকই, কিন্তু মারাত্মক কিছু নয়।