নাস্ত্যসদ্ধেতুকমসৎসদসদ্ধেতুকং তথা।
সচ্চ সদ্ধেতুকং নাস্তি সদ্ধেতুকমসৎকুতঃ॥৪০
অন্বয়: অসদ্ধেতুকম্ অসৎ ন অস্তি (অসৎ বস্তু [অর্থাৎ যে বস্তুর অস্তিত্ব নেই] থেকে আর একটি অসৎ বস্তুর উৎপত্তি হতে পারে না); তথা (অনুরূপভাবে); অসদ্ধেতুকং সৎ (অসৎ বস্তু থেকে কোন সৎ বস্তুর [অর্থাৎ যার অস্তিত্ব আছে] উৎপত্তি হতে পারে না); সদ্ধেতুকং সৎ (যার অস্তিত্ব আছে [অর্থাৎ আপেক্ষিক অস্তিত্ব যেমন দড়িতে সাপের অস্তিত্ব] তার থেকে আর একটি অস্তিত্ববান [অর্থাৎ আরেকটি সাপ] বস্তু উৎপন্ন হতে পারে না); সদ্ধেতুকম্ অসৎ কুতঃ (সুতরাং কোন সত্য বস্তু অর্থাৎ অস্তিত্ববান বস্তু থেকে কি করে অস্তিত্বহীন বা মিথ্যা বস্তুর উৎপত্তি হতে পারে?)।
সরলার্থ: যার অস্তিত্ব নেই সেই বস্তু অপর এক অস্তিত্বহীন বা মিথ্যা বস্তু উৎপন্ন করতে পারে না। ঠিক তেমনি অস্তিত্বহীন বস্তু থেকে সৎ বস্তু অর্থাৎ যার অস্তিত্ব আছে তার উৎপত্তি হতে পারে না। অনুরূপভাবে, যার অস্তিত্ব আছে (অর্থাৎ আপেক্ষিক অস্তিত্ব যেমন দড়িতে সাপের অস্তিত্ব) সেইরকম বস্তু থেকে আর একটি অস্তিত্বসম্পন্ন বস্তু (অর্থাৎ আরেকটি সাপ) উৎপন্ন হতে পারে না। সুতরাং কোন সত্য (অর্থাৎ অস্তিত্ববান) বস্তু থেকে কোন মিথ্যা (অর্থাৎ অস্তিত্বহীন) বস্তু কিভাবে হতে পারে?
ব্যাখ্যা: এই শ্লোকে কার্য-কারণ সম্পর্ক সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। এখানে দৃষ্টান্ত দিয়ে দেখানো হচ্ছে কার্য-কারণ সম্পর্ক যুক্তি ও অভিজ্ঞতা দুয়েরই বিরুদ্ধতা করে। শুরুতে বলা হয়েছে, অস্তিত্বহীন কোন বস্তু থেকে আর একটি অস্তিত্বহীন বস্তু উৎপন্ন হতে পারে না। ‘আকাশকুসুম’ বা ‘খরগোশের শিং’য়ের কোন অস্তিত্বই নেই। তাদের একটির থেকে অন্যটির কি উৎপত্তি হতে পারে? ঠিক তেমনি অস্তিত্বসম্পন্ন কোন বস্তু থেকে অপর কোন অস্তিত্ববান বস্তুরও উৎপত্তি সম্ভব নয়। এখানে অস্তিত্বসম্পন্ন বলতে বোঝাচ্ছে আপেক্ষিক অস্তিত্ব, যেমন দড়ির উপর সাপের অস্তিত্ব। এই সাপের থেকে কি আর একটি সাপের উৎপত্তি হওয়া সম্ভব?
সুতরাং সত্য বস্তু অর্থাৎ অস্তিত্ববান কোন বস্তু থেকে মিথ্যা অর্থাৎ অস্তিত্বহীন কোন বস্তুর উৎপত্তি কোনভাবেই হতে পারে না।