উৎপাদয়াপ্রসিদ্ধত্বাদজং সর্বমুদাহৃতম্।
ন চ ভূতাদভূতস্য সংভবোঽস্তি কথঞ্চন॥৩৮
অন্বয়: উৎপাদস্য অপ্রসিদ্ধত্বাৎ (বস্তুর উৎপত্তির কোন প্রমাণ না থাকায়); সর্বম্ অজম্ উদাহৃতম্ (সমগ্র জগৎকে অনাদি বলে বর্ণনা করা হয়); ভূতাৎ (শাশ্বত সত্য [ব্রহ্ম] থেকে); অভূতস্য কথঞ্চন সম্ভবঃ চ ন অস্তি (যা মিথ্যা তার উৎপত্তি হতে পারে না)।
সরলার্থ: বস্তুর উৎপত্তি না থাকায় সমগ্র জগৎকে অনাদি বলা হয়। বস্তুত নিত্য-সত্য (ব্রহ্ম) থেকে মিথ্যা অর্থাৎ যার অস্তিত্ব নেই তার উৎপত্তি হতে পারে না।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদীরা বলেন: একথা সত্য যে জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাই স্বপ্নের কারণ, কিন্তু সেই কারণে জাগ্রতকালের অভিজ্ঞতাকেও অসত্য বলা চলে না। স্বপ্নের অভিজ্ঞতা দ্রুত বদলায়। সেইজন্য তা অসত্য হতে পারে। কিন্তু জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা স্থায়ী। অতএব জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা স্বপ্নের মতোই মিথ্যা একথা ভাবা ঠিক নয়।
এর উত্তরে অদ্বৈতবাদীরা বলেন: যদি তুমি বিবেকবান না হও, তবেই তুমি তোমার জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতাকে সত্য বলে মনে করবে। কিন্তু যিনি যথার্থ বিবেকী (অর্থাৎ যিনি নিত্য ও অনিত্য বস্তুর তফাত জানেন), তিনি জানেন এ জগতে কিছুরই উৎপত্তি হয় না এবং সেইহেতু কিছুই সত্য নয়। একমাত্র আত্মাই সত্য। শাস্ত্র বলছেন: সমগ্র জগৎ আত্মার দ্বারা আচ্ছাদিত। আত্মা থেকে অনাত্ম বস্তুর যেমন খরখোশের শিংয়ের উৎপত্তি হয় না।