প্রজ্ঞপ্তেঃ সনিমিত্তত্বমিষ্যতে যুক্তিদর্শনাৎ।
নিমিত্তস্যানিমিত্তত্বমিষ্যতে ভূতদর্শনাৎ॥২৫
অন্বয়: যুক্তিদর্শনাৎ (যেহেতু যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা আছে [সেহেতু দ্বৈতবাদী]); প্রজ্ঞপ্তেঃ সনিমিত্তত্বম্ (সকল উপলব্ধির পেছনে একটি বস্তুর উপস্থিতি); ইষ্যতে (দাবি করে [আমরা অদ্বৈতবাদীরা]); ভূতদর্শনাৎ (একই আত্মাকে সর্বত্র বিরাজিত দেখি); নিমিত্তস্য অনিমিত্তত্বম্ (বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার জন্য বাহ্যবস্তুর প্রয়োজন নেই); ইষ্যতে (আমরা দেখি)।
সরলার্থ: (অদ্বৈতবাদী দ্বৈতবাদীকে বলছেন) তুমি বলতে চাইছ যেহেতু যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা আছে সেহেতু সেই যন্ত্রণার কারণও থাকবে। আমাদের বক্তব্য এই—যেহেতু আত্মা সর্বত্র আছেন, সবকিছুর ভিতরেও আছেন বাইরেও আছেন সেহেতু কোন অভিজ্ঞতার জন্য বাইরের বস্তুর প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা: দ্বৈতবাদীরা বলেন: যদি তুমি যন্ত্রণা বোধ কর তবে সেই যন্ত্রণার নিশ্চয়ই কোন কারণ থাকবে। ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতার জন্য বাহ্যবস্তুর একান্ত প্রয়োজন—যেমন আগুন বা অন্য কোন আঘাতে আমাদের যন্ত্রণার অনুভূতি হয়। আমরা বহু বস্তুর অস্তিত্বে বিশ্বাসী।
অদ্বৈতবাদীরা বলেন: জগতে একটিই মাত্র অস্তিত্ব আছে। তা হল আত্মা। এই আত্মাকেই নানা নামে নানা রূপে দেখা যায়। এই নাম-রূপ উপাধিমাত্র। সুতরাং এগুলি সত্য নয়। যেমন রজ্জুতে সর্পভ্রম হয়—যদি দড়ি বলে বুঝতে পারি তাহলে সাপের আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। যেমন নানারকমের মাটির পাত্র রয়েছে—থালা, পেয়ালা ইত্যাদি। যদি জানি সেগুলি মাটির তৈরি তাহলে আমার কাছে ওগুলি মাটি ছাড়া আর কিছুই নয়। অর্থাৎ আমার কাছে মানুষ আর মোষের মধ্যে যতটা তফাত, মাটির থালা আর পেয়ালার মধ্যে ততটা নয়। একইভাবে তুলোর তৈরি কিছু জিনিস নাম-রূপে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আমার কাছে সেগুলি সবই তুলো।
দ্বৈতবাদীরা তর্ক করতে পারেন: পৃথক বস্তুর অনুভূতিও পৃথক হয়। যেমন কোন বস্তু আমার পক্ষে বেদনাদায়ক, কোনটা বা সুখপ্রদ। সুতরাং মানতেই হবে বাইরে নানা বস্তু রয়েছে এবং সেগুলিকে আমরা নানাভাবে অনুভব করি।
উত্তরে অদ্বৈতবাদী বলেন: এর দ্বারা বাহ্যবস্তুর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। বাইরে যাই দেখ বা অনুভব কর না কেন আত্মাই একমাত্র আছেন। যেমন স্বপ্নে অনেকরকম বস্তু দেখা যায়—তার কিছু ভালো আর কিছু মন্দ। কিন্তু সেগুলি কি সত্য? সেগুলির কি কোন অস্তিত্ব আছে? না, আত্মা ছাড়া আর কোন বস্তুর অস্তিত্ব নেই। সবকিছুর মধ্য দিয়ে আমরা সেই আত্মাকেই উপলব্ধি করি।