স্বতো বা পরতো বাঽপি ন কিঞ্চিদ্বস্তু জায়তে।
সদসৎ সদসদ্বাঽপি ন কিঞ্চিদ্বস্তু জায়তে॥২২
অন্বয়: স্বতঃ (স্বতন্ত্রভাবে); বা পরতঃ (অথবা কারও মাধ্যমে); কিঞ্চিৎ বস্তু ন জায়তে (কোন বস্তুই জন্মগ্রহণ করে না); সৎ (যার অস্তিত্ব আছে [যেমন—এই জগৎ]); অসৎ (যার অস্তিত্ব নেই [যেমন আকাশকুসুম]); সৎ-অসৎ (একাধারে সত্যও বটে আবার অসত্যও বটে); কিঞ্চিৎ বস্তু ন জায়তে (কোন রূপের কোন বস্তুরই জন্ম হয় না)।
সরলার্থ: স্বতন্ত্রভাবেই হোক বা কারও মাধ্যমেই হোক, কোন কিছুরই জন্ম হয় না। কোন বস্তুর অস্তিত্ব থাকুক বা নাই থাকুক, অথবা যার অস্তিত্ব আছেও বটে আবার নেইও বটে—যাই হোক না কেন, কোন অবস্থাতেই কোন বস্তুর জন্ম হয় না।
ব্যাখ্যা: বেদান্ত জন্মের ধারণাকে সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। যেমন, কোন কিছুই আপনা-আপনি জন্মায় না। ঘট কখনো নিজেকে নিজে সৃষ্টি করতে পারে না। অনুরূপভাবে ঘট একটি বস্ত্রখণ্ড বা অন্য কিছু থেকেও উৎপন্ন হতে পারে না। আবার একটি বস্ত্রখণ্ড ও ঘট একযোগেও আর একটি ঘট বা আর একটি বস্ত্রখণ্ড উৎপন্ন করতে পারে না।
পরবর্তী প্রশ্নটি হল: যা আছে তার কি আবার জন্ম হতে পারে? প্রশ্নটি হাস্যকর। কারণ একটি বস্তু যদি ইতিপূর্বেই থেকে থাকে তবে তা আবার জন্মাতে যাবে কেন? আবার যার আদৌ অস্তিত্বই নেই তা কি জন্মাতে পারে? এ তো খরগোশের শিং হতে পারে কিনা সেইরকম প্রশ্ন। স্পষ্টতই উত্তর হল—না, পারে না।
আর একটি প্রশ্ন হল কোন বস্তু, যার একাধারে অস্তিত্ব আছে এবং নেই সে কি জন্মাতে পারে? প্রশ্নটিই উদ্ভট কারণ এরকম বস্তু কেউ কল্পনাও করতে পারে না।
আমরা বলি মাটি দিয়ে ঘট তৈরি হয় এবং পিতা পুত্রের জন্ম দেয়। কিন্তু ‘ঘট’ এবং ‘পুত্র’ শব্দে কোন আকার বা রূপকে বোঝায়, সত্যবস্তুকে নয়। সোনা দিয়ে গলার হার, বালা, কানের দুল প্রভৃতি গড়তে পারি। একই সোনা রূপ পালটাচ্ছে। আবার হার থেকে বালা, বালা থেকে কানের দুল তৈরি হতে পারে, কিন্তু সোনা সোনাই থাকে। বিবেকী ব্যক্তি আসল বস্তু ও তার বিভিন্ন আকারের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন। রূপ বদলায়, কিন্তু বস্তুটি একই থাকে।
বেদান্তমতে এই ‘বস্তু’টিই হল আত্মা—যা অপরিবর্তনীয় এবং অদ্বিতীয়। আমরা যত রূপ দেখি সে সবই আত্মার উপর আরোপিত উপাধিমাত্র—যেমনভাবে সাপ রজ্জুর উপর আরোপিত। এই আরোপ সত্ত্বেও আত্মা আত্মাই থাকেন। বিভিন্ন নাম-রূপের প্রভাবে এক আত্মাই বহু রূপে প্রতিভাত হন।