সম্ভবে হেতুফলয়োরেষিতব্যঃ ক্রমস্ত্বয়া।
যুগপৎসম্ভবে যম্মাদসম্বন্ধো বিষাণবৎ॥১৬
অন্বয়: হেতু-ফলয়োঃ সম্ভবে (কার্য-কারণের উৎপত্তি বিষয়ে); ত্বয়া ক্রমঃ এষিতব্যঃ (তুমি অবশ্যই স্বীকার করবে যে পরম্পরা আছে); যস্মাৎ (কারণ); যুগপৎ সম্ভবে (যদি উভয়েরই উৎপত্তি একসঙ্গে হয়); বিষাণবৎ অসম্বন্ধঃ (পরস্পরের সঙ্গে সংযোগহীন দুটো শিং যেমন একই সঙ্গে বেরোয় সেইরকম)।
সরলার্থ: তুমি নিশ্চয়ই স্বীকার করবে কার্য-কারণের মধ্যে একটা পরম্পরা আছে (কারণ আগে আসে কার্য পরে)। কারণ যদি উভয়ের উৎপত্তি একইসঙ্গে হয় তা হবে পরস্পর সংযোগহীন দুটো শিংয়ের একসঙ্গে বেরোনোর মতো। অর্থাৎ কার্য-কারণ সম্পর্ক সেখানে সিদ্ধ হয় না।
ব্যাখ্যা: খরগোশের শিং নেই একথা সবাই জানে। যদি বলা হয় খরগোশের শিং থেকে কোন কিছুর উৎপত্তি হয়েছে তবে তা হবে অবিশ্বাস্য। কারণ না থাকলে কার্যও থাকতে পারে না। প্রথমে কারণ থাকতেই হবে, কার্য তাকে অনুসরণ করবে। আবার কার্য না থাকলে সেই কার্যের কারণে পরিণত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যদি খরগোশের শিংই না থাকে, তবে সেই শিং নিশ্চয়ই কোন কার্যের কারণ হতে পারে না।
কার্য-কারণ তত্ত্ব দুরূহ যেহেতু কার্য হতে গেলে কারণ থাকতেই হবে। কারণের অস্তিত্বে সংশয় থাকলে কার্যের অস্তিত্ব স্বতই বাতিল হয়ে যায়।