যথৈকস্মিন্ ঘটাকাশে রজোধূমাদিভির্যুতে।
ন সর্বে সংপ্রযুজ্যন্তে তদ্বজ্জীবাঃ সুখাদিভিঃ॥৫
অন্বয়: যথা (ঠিক যেমন); একস্মিন্ ঘটাকাশে (কোন একটি ঘটের অভ্যন্তরস্থ আকাশে); রজোধূমাদিভিঃ যুতে (ধোঁয়া, ধুলো ইত্যাদি দ্বারা কলুষিত হতে পারে); সর্বে ন সংপ্রযুজ্যন্তে (কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে অন্যান্য ঘটস্থ আকাশও ঐভাবে মলিন হয়ে গেছে); তদ্বৎ জীবাঃ সুখাদিভিঃ (সেইভাবে [যদি একটি জীবাত্মা দুঃখ ভোগ করে] অন্যান্য জীবাত্মাও কোনভাবেই প্রভাবিত হয় না [অর্থাৎ একের সুখ-দুঃখ অন্যদের স্পর্শ করে না])।
সরলার্থ: একটি ঘটের অভ্যন্তরস্থ আকাশ ধোঁয়া বা ধুলোর দ্বারা মলিন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তার দ্বারা অন্যান্য ঘটের মধ্যে যে আকাশ তা কলুষিত হয় না। একইভাবে একটি জীবাত্মা যখন সুখ-দুঃখ ভোগ করে তখন তা অন্যান্য জীবাত্মাকে স্পর্শ করতে পারে না।
ব্যাখ্যা: এই শ্লোকটি দ্বৈতবাদীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে। দ্বৈতবাদীরা এই যুক্তি দেখাতে পারেন—‘যেহেতু আত্মা এক এবং অভিন্ন সেহেতু একটি দেহের যন্ত্রণা অন্যান্য দেহেও অনুভূত হওয়ার কথা।’ এরই উত্তর পাওয়া যাচ্ছে এই শ্লোকটিতে—এর দ্বারা বৈশেষিক ও সাংখ্যের যুক্তিকে খণ্ডন করা হয়েছে।
বেদান্তমতে আত্মা দেহহীন, সুতরাং তিনি সুখ-দুঃখের পার। আত্মা শুদ্ধ চৈতন্য। আত্মা আছে বলেই সুখ-দুঃখের অনুভূতি হয়। কিন্তু তার দ্বারা আত্মা প্রভাবিত হন না। সূর্য ভালো বা মন্দ উভয়কেই সমানভাবে আলো দান করে কিন্তু এই ভালো বা মন্দের দ্বারা সূর্য নিজে কখনো প্রভাবিত হয় না।