লয়ে সংবোধয়েচ্চিত্তং বিক্ষিপ্তং শময়েৎপুনঃ।
সকষায়ং বিজানীয়াৎসমপ্রাপ্তং ন চালয়েৎ॥৪৪
অন্বয়: চিত্তং লয়ে (যখন মন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন); সম্বোধয়েৎ (জেগে ওঠ ও মনকে আত্মায় যুক্ত কর); বিক্ষিপ্তম্ (যদি মন ইন্দ্রিয়সুখের পিছনে ছোটে); পুনঃ শময়েৎ (বারবার চেষ্টা করে মনকে বশে আন); সকষায়ম্ (মন যদি ইন্দ্রিয়সুখে আসক্ত হয়); বিজানীয়াৎ (নিজের বিপদ ডেকে আনছ, একথা স্মরণ রেখে মনকে আত্মায় নিবদ্ধ কর); সমপ্রাপ্তম্ (একবার মনকে বশে আনতে পারলে); ন চালয়েৎ (ইন্দ্রিয়সুখের পিছনে মনকে আর ছুটতে দিও না)।
সরলার্থ: তুমি যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন (যত তাড়াতাড়ি সম্ভব) জেগে ওঠ এবং মনকে আত্মার সঙ্গে যুক্ত কর। মন যদি ইন্দ্রিয়সুখের পিছনে ছোটে, বারবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা কর যতক্ষণ না মন সংযত হয়। যদি মন ইন্দ্রিয়সুখে আসক্ত হতে চায়, মনকে বোঝাও এর থেকে কি অনর্থ ঘটতে পারে। তারপর মনকে আত্মায় স্থির রাখার চেষ্টা করে যাও। আর একবার যদি সফল হও তাহলে মনকে আর ইন্দ্রিয়সুখের পিছনে ছুটতে দিও না।
ব্যাখ্যা: গাঢ় ঘুম সুখকর হতে পারে কিন্তু এও অবিদ্যার অবস্থা। তখনও আত্মা সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ। নিরন্তর আত্মচিন্তা ও ত্যাগ-বৈরাগ্যের অনুশীলন করে নিজেকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করতে হবে। আত্মা (অর্থাৎ যা সত্য) এবং অনাত্মা (অর্থাৎ যা মিথ্যা)—এ দুয়ের পার্থক্য সুনিশ্চিতভাবে জানতে হবে। মনকে সর্বদা সংযত রাখতে হবে। যদি কোন বিচ্যুতি ঘটে তা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। অবিরাম চেষ্টা করে যেতে হবে। আর দুটো অবস্থাকে সর্বতোভাবে পরিহার করতে হবে: জড় অবস্থা (অর্থাৎ গভীর ঘুম) এবং ইন্দ্রিয়সুখে আসক্তি।
ধরা যাক, এই দুটি অবস্থা বর্জন করতে তুমি সক্ষম হয়েছ। তা সত্ত্বেও মন যদি সংযত না হয়, ইন্দ্রিয়সুখের সামান্যতম আকাঙক্ষাও যদি থাকে তখন মনকে আত্মায় সমাহিত করার দৃঢ় প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না আত্মাতে লীন হয়ে যাচ্ছ। মনকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে না আনা পর্যন্ত থামা যাবে না। একবার মন তোমার নিয়ন্ত্রণে এলে আবার যাতে সে ইন্দ্রিয়সুখে প্রলুব্ধ না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।