দুঃখং সর্বমনুস্মৃত্য কামভোগান্নিবর্তয়েৎ।
অজং সর্বমনুস্মৃত্য জাতং নৈব তু পশ্যতি॥৪৩
অন্বয়: সর্বম্ (সকল প্রকার দ্বৈতবুদ্ধি); দুঃখম্ (দুঃখময়); অনুস্মৃত্য (সবসময় বিচার করতে হবে); কামভোগাৎ (ইন্দ্রিয়সুখের চিন্তা থেকে); নিবর্তয়েৎ ([মনকে] নিরস্ত করতে হবে); সর্বম্ (সকল রকমের দ্বৈতবুদ্ধি); অজম্ (ব্রহ্ম); অনুস্মৃত্য (সবসময় মনে রেখে); তু (আবার); জাতম্ (জন্মেছে [অর্থাৎ দুই দেখা]); ন এব পশ্যতি (দেখে না)।
সরলার্থ: সবরকমের দুই বোধ দুঃখযুক্ত—একথা সবসময় বিচার করে মনকে ইন্দ্রিয়সুখের চিন্তা থেকে বিরত রাখতে হবে। সেইসঙ্গে মনে রাখতে হবে আমরা যে বহু দেখি তা বস্তুত বহু নয়, এক অর্থাৎ ব্রহ্ম। নিরন্তর এই চিন্তা করলে আর দুই দেখা যায় না।
ব্যাখ্যা: আমাদের এই ‘বহু’ দেখা কিভাবে দূর হবে? প্রথমত আমাদের মনে বাখতে হবে ‘বহু’ দেখা অজ্ঞানতাপ্রসূত। ব্রহ্মই যে একমাত্র সত্য আর এই জগৎ ব্রহ্মের উপর আরোপিত উপাধি ছাড়া আর কিছুই নয়—একথা আমরা বুঝতে পারি না। আমরা ইন্দ্রিয়সুখের পিছনে ছুটছি, কারণ এই সুখকে আমরা সত্য এবং চিরস্থায়ী বলে মনে করছি। কালে আমরা সত্য কি তা বুঝতে পারি, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এইজন্যই উপনিষদ আমাদের বারবার ইন্দ্রিয়ভোগ্য বস্তুর অসারতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। একইসঙ্গে মনে রাখতে বলছেন ব্রহ্মই একমাত্র সত্য; ব্রহ্ম ছাড়া দ্বিতীয় কিছু দেখা ভ্রান্তি মাত্র। যা কিছু দেখি সবই ব্রহ্ম—একথা আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে। পরিণামে আমরা শুধু ব্রহ্মকেই দেখব, ব্রহ্ম ছাড়া অন্য কিছু দেখতে পাব না। তখন আর বহু নেই, এক। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন: দুই দেখা ভুল। এই দুই দেখাই সব দুঃখ-কষ্টের মূল। আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই দুই বোধ না আসে।